Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

করিডরের কাজ চলায় বন্ধ নিকাশি ব্যবস্থা সাঁতরাগাছি আন্ডারপাস যেন সুইমিং পুল, হাঁটু সমান জল পেরিয়ে নিত্য যাতায়াত, ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

প্রতি বছর বর্ষা এলেই সাঁতরাগাছি রেল স্টেশনের উল্টোদিকে থাকা আন্ডারপাস পরিণত হয় সুইমিং পুলে

করিডরের কাজ চলায় বন্ধ নিকাশি ব্যবস্থা সাঁতরাগাছি আন্ডারপাস যেন সুইমিং পুল, হাঁটু সমান জল পেরিয়ে নিত্য যাতায়াত, ক্ষুব্ধ যাত্রীরা
  • ৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রতি বছর বর্ষা এলেই সাঁতরাগাছি রেল স্টেশনের উল্টোদিকে থাকা আন্ডারপাস পরিণত হয় সুইমিং পুলে। অফিসে আসা-যাওয়ার পথে হাঁটুসমান নোংরা জল পেরিয়ে যেতে হয় নিত্যযাত্রীদের। এবছরও ছবিটা এতটুকু বদলায়নি। বরং নিকাশির সমস্ত আউটলেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্ডারপাসের আশপাশের চত্বর কার্যত বন্যার চেহারা নিয়েছে। জল-যন্ত্রণা থেকে রেহাই মিলবে কবে? সদুত্তর দিতে পারেনি রেল কিংবা পুরসভা। 

Advertisement

লোকাল ট্রেনের পাশাপাশি সাঁতরাগাছি স্টেশনে দূরপাল্লার ট্রেনের সংখ্যা ইদানীং  অনেকটাই বেড়েছে। হাওড়া ও শালিমারের উপর যাত্রী চাপ কমাতে আগামী দিনে সাঁতরাগাছিকে বড় টার্মিনাল স্টেশনে রূপান্তরিত করার কথা ভাবছে রেল। সেকারণে স্টেশনে আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। অন্যদিকে, স্টেশনের উল্টোদিকে কোনা এক্সপ্রেসওয়ের উপর এলিভেটেড করিডরের কাজ চলছে। এই দুই উন্নয়নের মাঝে কোনা এক্সপ্রেসওয়ের নীচে থাকা আন্ডারপাসে দুঃসহ জল-যন্ত্রণা আসলে প্রদীপের তলায় অন্ধকারের মতোই। সাঁতরাগাছি স্টেশন থেকে বেরিয়ে আমতা, বাগনান, ধূলাগড়ের বাস ধরতে হলে আন্ডারপাসের পাশের সিঁড়ি ব্যবহার করেন নিত্যযাত্রীরা। কিন্তু কলকাতা কিংবা হাওড়া শহরের দিকে যেতে হলে আন্ডারপাস ব্যবহার করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও উপায় নেই। বর্তমানে আন্ডারপাসে হাঁটুর উপরে জল। হেঁটে তো দূরের কথা, সাইকেল কিংবা বাইক নিয়ে যাওয়ারও উপায় নেই। অগত্যা আন্ডারপাসের একপাশে পাথরের স্ল্যাবের উপর দিয়ে দীর্ঘ লাইনে সন্তর্পণে পা মিলিয়ে এগিয়ে চলেন যাত্রীরা। বর্তমানে জমা জল আন্ডারপাস ছাড়িয়ে প্রায় স্টেশন রোড পর্যন্ত চলে এসেছে। ফলে শহরতলির বাস ধরতে গেলেও জলে পা ফেলতে হচ্ছে যাত্রীদের। জল ঠেলে বাস এসে দাঁড়াতেই স্রোত ছড়িয়ে পড়ছে সাবওয়ে পর্যন্ত। 
ক্ষুব্ধ যাত্রীদের কথায়, ‘এলিভেটেড করিডরের কাজ শুরু হওয়ার পর আন্ডারপাসে জমা জলের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। এবছর বর্ষা শুরুর আগেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছিল। রেল, পুরসভা কারওরই ভ্রুক্ষেপ নেই।’ আদৌ কি মিটবে এই সমস্যা? দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক ওমপ্রকাশ চরণ বলেন, ‘স্টেশন চত্বরে জমা জলের তেমন সমস্যা নেই। আন্ডারপাসের বিষয়টি হাওড়া পুরসভার দেখা উচিত।’ পুরসভার দাবি, সাঁতরাগাছি স্টেশনের বাইরে একইসঙ্গে রেল ও এলিভেটেড করিডরের কাজ চলছে। ফলে স্টেশন রোড সংলগ্ন ড্রেনেজ সিস্টেম সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। সে কারণে বারবার পাম্প চালানো হলেও এত পরিমাণ জল পুরসভার পক্ষে নামানো সম্ভব হচ্ছে না। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘সাঁতরাগাছি আন্ডারপাসে জল জমার সমস্যা দীর্ঘদিনের। ইতিমধ্যেই রেল ও এলিভেটেড করিডর নির্মাণকারী সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। একটি চ্যানেল কেটে জমা জল বের করার কথা ভাবা হয়েছে। আশাকরি তাতে সমস্যা মিটবে।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ