মেহতাব হোসেন: এক দশক আগেও ঘরোয়া লিগের খেলা থাকলে গমগম করত ময়দান। তিনটি ঘেরা মাঠেই ঠাসা সমর্থকই ছিল চেনা ছবি। এখন তো কলকাতা লিগ মূলত জেলা লিগে পরিণত হয়েছে। আগে সকলে কলকাতায় খেলতে আসত। আর এখন অধিকাংশ ম্যাচই হয় বাইরে। ফলে ঘরোয়া লিগের সেই উন্মাদনা কোথাও যেন হারিয়ে গিয়েছে। ছোটবেলা থেকেই শুনতাম, ঘরোয়া লিগই হল ফুটবলার তৈরির সেরা মঞ্চ। নিজেও এই লিগ খেলেই বড় হয়েছি। কালীঘাট, বিএনআর, টালিগঞ্জ অগ্রগামী হয়ে বড় দলের জার্সি গায়ে চাপাই। আরও মনে আছে, রবীন্দ্র সরোবরে একটি ম্যাচে টালিগঞ্জের বিরুদ্ধে দুরন্ত ফুটবল খেলেছিলাম। তখন আমি রেল দলে। সেই ম্যাচের পরই মন্টু দা (ঘোষ) বলেছিলেন, পরের মরশুমে যেন টালিগঞ্জে সই করি। আসলে সেই সময় কর্তারা নিজেরা মাঠে বসে ফুটবলার বেছে নিতেন। আর এখন তো এজেন্টের দাপট। ফলে চার আনার ফুটবলারের দর ঠেকেছে ১৬ আনায়। এজেন্টদের দাদাগিরিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্লাবগুলি। তবে এখনও ঘরোয়া লিগে অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে, যারা ঠিক মতো প্রচারের আলোয় আসে না। ঠিকঠাক যত্ন নিতে পারলে ভবিষ্যতে সেই ফুটবলারগুলি বাংলার সম্পদ হয়ে দাঁড়াবে। তাই আমার মতে, ফুটবলার তুলে আনতে হলে ঘরোয়া লিগকে পাখির চোখ করা উচিত।



