Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

লিগে বিদেশি ফুটবলার বন্ধের সিদ্ধান্ত সমর্থনযোগ্য নয়

২০১৭ সালে আইজল এফসি থেকে সই করি ইস্ট বেঙ্গলে। পাহাড়ের মানুষ ফুটবল ভালোবাসেন।

লিগে বিদেশি ফুটবলার বন্ধের সিদ্ধান্ত সমর্থনযোগ্য নয়
  • ১২ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:০৮
Prefer us on Google

মাহমুদ আল আমনা: ২০১৭ সালে আইজল এফসি থেকে সই করি ইস্ট বেঙ্গলে। পাহাড়ের মানুষ ফুটবল ভালোবাসেন। আইজলে আই লিগ জেতার পর গ্যালারির উন্মাদনা ভোলার নয়। কিন্তু কলকাতায় পা রেখে বুঝলাম, এই শহর কেন ভারতীয় ফুটবলের মক্কা। আর ডার্বি এলে তো কথাই নেই। গোটা পরিবেশই বদলে যেত। আবাসনের পরিচিতরা তো বটেই, ট্যাক্সিচালকও গোলের আব্দার জানাতেন। এই শহরের ফুটবল আবেগকে কুর্নিশ জানাতে হয়। ঘরোয়া লিগের ম্যাচেও প্রবল উন্মাদনা। এমনই এক ম্যাচের কথা মনে পড়ছে। লাল-হলুদের কোচ তখন সুভাষ ভৌমিক। প্রতিপক্ষ সম্ভবত জর্জ টেলিগ্রাফ। বৃষ্টিভেজা মাঠে পিছিয়ে পড়ে ইস্ট বেঙ্গল। শেষ পর্যন্ত সংযোজিত সময়ের গোলে ম্যাচ জেতার পর হাঁফ ছেড়ে বাঁচার অবস্থা। আসলে কলকাতা লিগ মানেই টানটান লড়াই। ব্যক্তিগত মত, আই লিগের ক্লাবকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে প্রিমিয়ার ডিভিশনের দল। তখন প্রতিটি দলেই বিদেশি ফুটবলার রিক্রুট করার চল ছিল। বিভিন্ন দেশের বিদেশিরাও টক্কর দিতে মুখিয়ে থাকত। 

Advertisement

ঘরোয়া লিগ খেলা বেশ কঠিন। কর্দমাক্ত মাঠ। কখনও গনগনে রোদ। তার উপর ১০ মিনিট গোল না হলেই সমর্থকদের চিৎকার শুরু। সে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ইস্ট বেঙ্গলের সেই সোনালি দিনগুলো আজীবনের সম্পদ। অবসরের পর আমি এখন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। মিশর আমার কর্মস্থল। কাজের ফাঁকে সময় পেলে ভারতীয় ফুটবলের খবর রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু কলকাতা লিগের এই হাল কেন? সেই টগবগে, প্রাণচঞ্চল সমর্থকরা কোথায় গেলেন? বিদেশি ফুটবলার বন্ধের সিদ্ধান্ত একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয়। কোটা কমিয়ে অন্তত দু’জন বিদেশি খেলানোই যেত। এছাড়া সিনিয়র ফুটবলারদের ঘরোয়া লিগে না খেলানোও আশ্চর্যের। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলে আকর্ষণ তো কমবেই। এভাবে চললে আখেরে ভারতীয় ফুটবলের ক্ষতি। তাই আয়োজকরা নিশ্চয়ই বিকল্প উপায় ভাববেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ