Bartaman Logo
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মৃত ব্যক্তির আবাস যোজনার টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে!

মারা গিয়েছেন প্রায় এক বছর আগে। তা সত্ত্বেও মৃত ব্যক্তির নামেই আবাস যোজনায় ঘর বরাদ্দ হয়েছে। শুধু তাই নয়, অন্য এক মহিলার অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ঢুকেছে।

মৃত ব্যক্তির আবাস যোজনার টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে!
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মারা গিয়েছেন প্রায় এক বছর আগে। তা সত্ত্বেও মৃত ব্যক্তির নামেই আবাস যোজনায় ঘর বরাদ্দ হয়েছে। শুধু তাই নয়, অন্য এক মহিলার অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ঢুকেছে। সেই টাকা তুলেও নেওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনায় স্থানীয় এক তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের নাম জড়িয়েছে। ঘটনার জেরে মুরারইয়ের রাজগ্রাম পঞ্চায়েতের বরুয়া গোপালপুর গ্রামে শোরগোল পড়েছে। প্রতিকার চেয়ে সোমবার বিডিও অফিসে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন মৃত উপভোক্তার ছেলে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে সরকারি বাড়ির জন্য আবেদন করেছিলেন ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ। গতবছর ১১সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। পরবর্তীতে প্রশাসনের তরফ থেকে যোগ্যতা যাচাইয়ের সমীক্ষা করতে এলে তাঁর ছেলে মনিরুজ্জামান আধিকারিকদের বাবার মৃত্যুর খবর জানান। প্রাপকের তালিকা থেকে বাবার নাম বাদ দেওয়ারও অনুরোধ করেন। মনিরুজ্জামানের দাবি, তিনি ভেবেছিলেন বাবার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি আবাসের তালিকায় তিনি দেখেন, বাবার নাম রয়েছে। চলতি বছরের ২ফেব্রুয়ারি প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা এবং ১৭আগস্ট দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্কে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ওই টাকা ঢুকেছে রাবিয়া সুলতানা নামে এক মহিলার অ্যাকাউন্টে। আবাস যোজনার তালিকায় আব্দুল সাহেবের মোবাইল নম্বরের জায়গায় দেওয়া রয়েছে স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য নূর আলমের নম্বর। এরপরই পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সোমবার বিডিও অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মনিরুজ্জামান। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত রাবিয়া সুলতানা ওই গ্রামের বধূ হলেও বছর দুয়েক আগে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তারপর থেকে তিনি মাড়গ্রামে বাপেরবাড়িতে থাকেন। এবিষয়ে জানতে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমার অ্যাকাউন্টে কীভাবে অন্যের আবাসের টাকা ঢুকল তা আমি একেবারেই জানি না। কেউ আমাকে ফাঁসাতে ষড়যন্ত্র করে থাকতে পারে। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য নূর আলম। তাঁর সাফাই, ২০১৮সালের ওই সমীক্ষার সময় অনেক দুঃস্থ মানুষজনের নিজের মোবাইল না থাকায় তাঁরা তাঁর নম্বর ব্যবহার করেছিলেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পেও ২২জন তাঁর নম্বর দিয়েছেন বলে তাঁর দাবি। নূর আলম বলেন, কে কখন আমার নম্বর দিয়ে দেয় তা কে জানে। তাছাড়া রাবিয়া অত্যন্ত সৎ মহিলা। আমাকে ও রাবিয়াকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হচ্ছে। সোমবারই বিডিও অফিসে এসে রাবিয়া ওই টাকা ফেরতও দিয়ে গিয়েছেন। রাবিয়াও টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।  যদিও টাকা ফেরতের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করেনি প্রশাসন। বিডিও এইচএম রিয়াজুল হক বলেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। কেউ এরকম কোনো টাকা ফেরত দিয়ে গিয়েছেন কি না তা বিস্তারিত না দেখে নিশ্চিত করে বলতে পারব না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ