সংবাদদাতা, কান্দি: ঘরে বসে কাজ না করে মাস মাইনে তোলার দিন শেষ। অনেকেই রয়েছেন যাঁরা কোনো কাজ না করে শুধুমাত্র সই করে টাকা তুলে নেন বলে অভিযোগ। এবার কান্দি পুরসভায় আর এসব কারবার চলবে না বলে জানালেন রাজ্যের অপ্রচলিত ও নবীকরণযোগ্য শক্তি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী গার্গী দাস ঘোষ। রবিবার পুরসভায় পৌঁছে তিনি কাজ না করে বেতন নেওয়া ক্যাজুয়াল কমীদের তালিকা বানানোর নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, মাসখানেক আগে কান্দি পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন জয়দেব ঘটক। এরপরেই পুর এলাকায় পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে বাসিন্দাদের। ঠিকমতো জঞ্জাল সাফাই না হওয়া, শহরে আবর্জনার স্তুপ জমা হওয়া নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠছে। এমনকী, পথবাতিগুলি অকেজো হয়ে রয়েছে ও পানীয় জলের সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। এনিয়ে কান্দির প্রাক্তন বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, পুর আইন অনুযায়ী কাউকে নিয়োগ করে থাকেন এগজিকিউটিভ অফিসার। ক্যাজুয়াল কর্মীদের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। কেউ যদি কাজ না করে বেতন বা সাম্মানিক তোলেন সেটা দেখার দায়িত্ব পুর কর্তৃপক্ষের। এখন তালিকা তৈরি করে কাকে ছাঁটাই করবেন, কাকে রাখবেন সেটা ওঁদের বিষয়।
বাসিন্দা প্রদীপ প্রামাণিক, সুরজিৎ সাহারা জানান, চেয়ারম্যানের পদত্যাগের আগে শহরে তিনবার পর্যন্ত সাফাই অভিযান চলত। এমনকি, নৈশ সাফাইও চলত। তবে এখন সেসব বন্ধ। পানীয় জলের সাব মার্সিবলগুলি একবার খারাপ হয়ে গেলে তা আর মেরামত করা হচ্ছে না। পথবাতিগুলির অবস্থাও সাবমার্সিবল পাম্পের মতো।
কান্দি পুরসভার বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার পিছনে রয়েছে ক্যাজুয়াল কর্মীদের ঠিকমতো কাজ না করা ও পুরসভার আর্থিক স্বাস্থ্য ভালো না হওয়ার কারণ।
এই পরিস্থিতিতে রবিবার কান্দির বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী গার্গী দাস ঘোষ পুরসভায় যান। সেখানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে যাতে পুর পরিষেবায় কোনো খামতি না থাকে। তবে পুরসভায় অর্থের সঙ্কট রয়েছে। সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। যাতে আরও অন্তত তিন মাস তাঁরা কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।
গার্গীদেবী আরও বলেন, এই পুরসভায় প্রচুর ক্যাজুয়াল কর্মী রয়েছেন। যাঁদের অনেকে কাজ করে বেতন বা সাম্মানিক পেয়ে থাকেন। তবে অনেকেই রয়েছেন যাঁরা কোনো কাজ না করেই বেতন বা সাম্মানিক তুলছেন। শুধুমাত্র খাতায় সই করে এভাবে বেতন নেওয়ার দিন কিন্তু শেষ। পুরসভাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যারা শুধু সই করে বেতন বা সাম্মানিক তোলেন তাদের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরির। দ্রুত ওই সব ক্যাজুয়াল কমীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কান্দি পুর এলাকায় এমন ক্যাজুয়াল কর্মীর সংখ্যা প্রায় ২,৭০০। যাঁদের কারওর বেতন বা সাম্মানিক হাজার টাকাও রয়েছে।