সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: হাওড়া জেলার যে ক’টি প্রাচীন পারিবারিক পুজো এখনও ঐতিহ্য বহন করে হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম উদয়নারায়ণপুরের দেবীপুরের দত্তবাড়ির পুজো। এই পুজো ৪০০ বছরেরও বেশি পুরনো। দত্ত পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান রাজ কৃষ্ণচন্দ্রের দেওয়ান ভবানীচরণ দত্ত রাজপ্রদত্ত অষ্টধাতুর দুর্গামূর্তি, কষ্টীপাথরের কৃষ্ণমূর্তি এবং অষ্টধাতুর রাধামূর্তি বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি দুর্গাপুজোর সূচনা করেন। সে সময় দেবীপুর, রায়চকম নারকেলবেড়িয়া প্রভৃতি মৌজায় প্রায় ৫০০ বিঘা জমি পেয়ে দেবসেবা শুরু করেন। পরবর্তীকালে দেবদেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। দুর্গোৎসবের জন্য তৈরি হয় পৃথক নাটমন্দির। এখন সারাবছরই দুর্গা ও রাধাকৃষ্ণের নিত্যসেবার ব্যবস্থা। এই পরিবারের অন্যতম সদস্য স্বরূপ দত্ত জানান, পঞ্জিকা মেনে নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো হয়। সপ্তমীতে নবপত্রিকা প্রবেশের পর দেবীকে মন্দির থেকে নাটমন্দিরে নিয়ে যাওয়ার নিয়ম। এরপর সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে পুজো হয়। তারপর দশমীতে যথা নিয়মে আবার মন্দিরে ফিরে যান দেবী। প্রতিদিন পুজোয় ভোগ দেওয়ার রীতি। বিকেলে গাওয়া ঘিয়ের লুচি ও নারকেল সন্দেশ দিতে হয় ঠাকুরকে। পুজোয় তিনদিন পাঁঠাবলি। সন্ধিপুজোয় কালো পাঁঠা বলি দেওয়ার নিয়ম। ৭০ বছর আগে রাজপ্রদত্ত দেবীমূর্তি চুরি গিয়েছিল। তারপর বেনারস থেকে নতুন মূর্তি আনা হয়। দশমীতে পরিবারের গৃহবধূরা সিঁদুর ও কাদামাটি খেলেন। পাশাপাশি ঘট বিসর্জন হয়। পরিবারের যে সদস্যরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন পুজোর সময় তাঁরা বাড়ি আসেন।



