সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামের বিরিহাঁন্ডি উদীয়মান তরুণ সংঘের দুর্গাপুজোর এবারের থিম-‘পার্বণের দেশে মা’। মণ্ডপসজ্জায় কুড়মি জনজাতির করম, বাঁদনা, টুসু, আইখান, রহিন, গাজন সহ বিভিন্ন সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। শহরতলি ছাড়াও গ্রামাঞ্চলের দর্শনার্থীদের নজর কাড়তেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা ও মণ্ডপ তৈরির কাজ জোরকদমে চলছে।
১২বছর আগে গ্রামের বাসিন্দা জগদীশ মাহাতর উদ্যোগে এই পুজো শুরু হয়েছিল। গত জানুয়ারি মাসে দুরারোগ্য ব্যাধিতে তিনি প্রয়াত হয়েছেন। এই ক্লাবের পুজো ২০১৭সালে মণ্ডপসজ্জায় রাজ্য সরকারের বিশ্ববাংলা শারদ সম্মান পেয়েছে। সেবার থিম ছিল ‘অদৃশ্য দুর্গা’। তখন থেকেই প্রতিবার এই পুজো দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ে। ২০১৯সালে এই ক্লাবের ‘যমালয়ে জীবন্ত দুর্গা’ থিম ফের সেরা মণ্ডপসজ্জার জন্য বিশ্ববাংলা শারদ সম্মান অর্জন করেছিল।
ঝাড়গ্রাম শহর থেকে মাত্র ১৩কিমি দূরে আগুইবনি পঞ্চায়েতের বিরিহাঁন্ডি এলাকা। এখানকার উদীয়মান তরুণ সংঘের পুজোমণ্ডপে কুড়মি জনজাতির জাওয়া করম, বাঁদনা পরবে গোমাতার পুজোর আঙ্গিক, টুসু পরবের উন্মাদনা, আইখান যাত্রার গরাম পুজো সহ নানা সংস্কৃতি দেখা যাবে। এই ক্লাব রাজ্য সরকারের তরফে আর্থিক সহায়তা পায়। পুজো কমিটির সম্পাদক অর্করঞ্জন মাহাত, সহ-সম্পাদক মহেশ্বর মাহাত সহ ক্লাবের ১০০জন সদস্য পুজোর আয়োজনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। এবার পুজোর বাজেট সাতলক্ষ টাকা।ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সৌম্য মাহাত বলেন, আমাদের ক্লাবের পুজো বিভিন্নভাবে জেলা তথা রাজ্যবাসীর নজর কেড়েছে। আশা করি, এবারও ‘পার্বণের দেশে মা’ থিমের মাধ্যমে এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারব। আমাদের কুড়মি সংস্কৃতির বিভিন্ন পরব-পার্বণের উপস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুজোয় ওড়িশা থেকে আসা করমরাজা ঝুমুর আখড়া সম্প্রদায়ের নাচ-গান সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে। নিজস্ব চিত্র