দেবজিৎ ঘোষ: লায়োনেল মেসি বনাম লামিনে ইয়ামাল নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় জোর চর্চা। চায়ের পেয়ালায় তরজা। সেই বৃত্তে রোমেরো, মোলিনা বা কুবার্সিদের খোঁজা বৃথা। ভুললে চলবে না স্ট্রাইকার ম্যাচ জেতায়। কিন্তু পোক্ত রক্ষণই যুদ্ধ বাঁচানোর চাবিকাঠি। ফাইনালের আগে ৭টি গোল হজম করেছে আর্জেন্তিনা। স্পেন মাত্র একটি। পরিসংখ্যানের বিচারে ডিফেন্সিভ ফর্মেশনে ফুয়েন্তে ব্রিগেড এগিয়ে। কিন্তু প্রতিপক্ষে মেসি রয়েছেন যে! নীল-সাদার ম্যাজিশিয়ানকে রোখার সিস্টেম বোধহয় আবিষ্কারই হয়নি।
স্কালোনির দুর্গে মার্তিনেজ শেষ প্রহরী। ব্যাক ফোরে মোলিনা, রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও টাগলিয়াফিকো। কড়া ট্যাকলার প্রত্যেকেই। তবে রক্ষণ দুর্ভেদ্য নয়। প্রায় প্রতি ম্যাচেই গোল হজম করেছে তারা। বিশেষ করে দ্রুতগতির প্রতি-আক্রমণের সামনে বারবার অস্বস্তিতে পড়েছে স্কালোনি ব্রিগেড। প্রান্তিক আক্রমণে বায়েনা ও ইয়ামালকে খেলাচ্ছে স্পেন। পরিবর্ত নিকো উইলিয়ামসও ভয়ঙ্কর। সেটা বুঝেই মাঝমাঠ জমাট করার চেষ্টায় আর্জেন্তিনা কোচ। বিশেষ করে সিমিওনেকে ট্র্যাক ব্যাক করতেই হবে। এবার স্পেনের দিকে চোখ ফেরানো যাক। চার ডিফেন্ডার কুকুরেয়া, কুবার্সি, লাপোর্তে ও পোরো। চলতি টুর্নামেন্টে প্রত্যেকেই যেন নিজেকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। অসামান্য অনুমানক্ষমতা। কম্বিনেশন যেন ব্যাংকের ভল্ট। তা দখল নেওয়া মোটেও সহজ নয়। কুকুরেয়ার কথা আলাদা করে বলতেই হয়। যেন ডাবল অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে মাঠ চষে বেড়ায়। উইং হাফের ভূমিকাতেও সাবলীল। ক্রমাগত ওভারল্যাপে এসে চাপ বাড়াতে জুড়ি নেই। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে মোক্ষম সময়ে গোল বাঁচিয়েছিল কুকুরেয়া। এমন ট্যাকল যে কোনো ডিফেন্ডারের স্বপ্ন। এমবাপের দখলে বল। ছোবল মারতে উদ্যত ফরাসি তারকা। কোথা থেকে উদয় হল কুকুরেয়া। ছোট্ট টোকায় বল বিপন্মুক্ত করে নিঃশব্দে জায়গায় ফিরল। একেবারেই নিরুত্তাপ। যেন কিছুই করেনি। ফ্লানেলের মতো এই সিস্টেম গোটা টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক। বাকি শুধু ফাইনাল। আর্জেন্তিনা কোচ স্কালোনি অল-আউট আক্রমণে আসার জন্য নির্দিষ্ট স্পেল বেছে নেন। সেই ঝড় কুকুরেয়ারা কীভাবে সামলায় সেটাই দেখার।