Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাড়ু আসছে শুনেই জমছে ভিড়, বহরমপুরের অলিগলিতে জনসংযোগ তৃণমূল প্রার্থীর

নাড়ু এসেছে! শুনেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বাড়ি থেকে গলির মুখে বেরিয়ে এসে তৃণমূল প্রার্থীকে জড়িয়ে ধরলেন বৃদ্ধা

নাড়ু আসছে শুনেই জমছে ভিড়, বহরমপুরের অলিগলিতে জনসংযোগ তৃণমূল প্রার্থীর
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর: নাড়ু এসেছে! শুনেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বাড়ি থেকে গলির মুখে বেরিয়ে এসে তৃণমূল প্রার্থীকে জড়িয়ে ধরলেন বৃদ্ধা। বৃদ্ধার পা ছুঁয়ে প্রণাম করতেই মাথায় হাত বুলিয়ে আশীর্বাদ। খাগড়া ফাঁড়ির সামনের গলিতে সুসজ্জিত র‍্যালি পৌঁছতেই মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে এল নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের সাথে হাত মেলাতে। প্রার্থী প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলতে ভিতরে ঢুকে গেলেন। কয়েকটি পুরনো বাড়ির ভিতরে থাকা মন্দিরে গিয়ে মাথা ঠুকলেন। হাতে আর এক সপ্তাহ। নিবিড় জনসংযোগে বহরমপুর আসনে প্রথমবার ঘাসফুল ফোটাতে মরিয়া নাড়ুগোপাল। 
পরণে লাল সুতির গেঞ্জি, নীচে মিড নাইট ব্লু ট্রাউজার। মাথায় টুপি। গলায় জড়ানো সাদা খাদির উত্তরীয়। চৈত্রের শেষ দিনের রোদ উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাগড়ার অলিগলি হেঁটে চষে বেড়ালেন তিনি। ঘামে ভিজছেন। সাদা কাপড়ে মুখ মুছে আবার হাঁটা। কখনও কর্মীদের শরবত খাওয়াচ্ছেন। একটু জিরিয়ে আবার হাঁটছেন। শহরে মাইলের পর মাইল হেঁটে জনসংযোগে বাকিদের হারিয়ে দিচ্ছেন নাড়ু। প্রতিটি মিছিলে গান বাজছে ‘নাড়ুগোপালই ভরসা’। পিছনে নীল সাদা বেলুন নিয়ে উৎসাহীরা মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে স্লোগান দিচ্ছেন। কেউ উন্নয়নের খতিয়ান তুলে মানুষকে বোঝাচ্ছেন, এবার আর ভুল নয়। হবে তৃণমূলের জয়। নাড়ুগোপালবাবু বলেন, মানুষের আন্তরিক ভালোবাসা আমাকে ঋণী করছে। এতদিন পুর পরিষেবা দিয়ে মানুষের পাশে ছিলাম। এবার একটা বার বিধানসভায় সুযোগ চাইছি। কারও কোনো আক্ষেপ রাখব না। মানুষের দুয়ারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছি। ছোট থেকে বড় সকলের সঙ্গে কথা বলছি, ভালো সাড়া মিলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমরা এই সরকারের সামাজিক সুরক্ষার প্রকল্পগুলির সুবিধা মানুষ পাচ্ছে কি না, সে ব্যাপারেও খোঁজ নিচ্ছি। সকলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা রাখবেন বলে আশ্বস্ত করছেন। তাই আমি জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। 
অপরদিকে প্রতিদিনই নিজের মতো করে প্রচার করছেন বিজেপির সুব্রত মৈত্র। অধিকাংশ এলাকায় হেঁটে প্রচার করলেও হুড খোলা গাড়িতেও তিনি ঘুরছেন। আবার কংগ্রেসের প্রার্থী অধীর চৌধুরী প্রতিদিন সকাল এবং সন্ধ্যায় নিজের বিধানসভা এলাকায় সময় দিচ্ছেন। কখনও হেঁটে, কখনও হুড খোলা জিপে এলাকায় ঘুরে জনসংযোগ সারছেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। দুপুর কিংবা বিকেলে জেলার অন্যান্য বিধানসভায় প্রচার করছেন অধীর। মুর্শিদাবাদ জেলাতে এবার কংগ্রেসের ফল ভালো হবে বলেই তিনি আশাবাদী। প্রচারের শুরুতে তাঁকে বেশ কয়েকবার বাধা দেওয়া হয়। প্রচারের ফ্লেক্স ফেস্টুন ছিঁড়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন অধীর। তিনি বলেন, তৃণমূল এখানে বিজেপির ফ্লেক্স ছিঁড়ছে না। এখানকার তৃণমূল শুধুমাত্র কংগ্রেসের পোস্টার ছেড়ে। তৃণমূলকে যতক্ষণ না বাংলা থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করা যাবে, ততক্ষণ এইসব চলতেই থাকবে। পুলিশকে বলে কোনো লাভ হয় না। আমাদের পোস্টার ব্যানার ছিঁড়ে দিয়ে ওরা শুধু নিজেদের প্রচার করতে চাইছে। ওরা ভাবে পোস্টার ব্যানার ছিড়ে দিলেই কংগ্রেসের ভোট কমে যাবে। কংগ্রেস মানুষের মনের মধ্যে আছে। নাড়ুগোপালবাবু পাল্টা বলেন, নিজের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে বুঝতে পেরে এক নেতা যেন যুদ্ধ করতে নেমেছেন। সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বহরমপুরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পাড়ায় পাড়ায় সরু গলিতে একের পর এক কনভয়ের গাড়ি যানজট তৈরি করছে। তারপর বাহিনী নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে মানুষের কাছে ভোট চাইছে। পাঁচবারের কংগ্রেসের সাংসদ থেকে তিনি এই বিধানসভার বাসিন্দাদের জন্য কী করেছেন, সেই উত্তর অধীরবাবুর কাছে নেই। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement

 

সম্পর্কিত সংবাদ