সংবাদদাতা, বজবজ: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাখরাহাটের বড় কাছারি মন্দির থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্ব মাখালিয়া মধ্যমপাড়া। এখানেই গাছগাছালি আর পুকুর ঘেরা একটি বাড়ি দেখা যাবে। বাড়িটি এক সময়ের বেতারশিল্পী ও মিনার্ভা থিয়েটারের নামী প্লে ব্যাক সিঙ্গার যুগলকিশোর পালের। এইচ এম ভি এক সময়ে তাঁর একাধিক লং প্লে রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই গুণী শিল্পীর সঙ্গে কবি নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কবি যখনই নিজের নতুন কোনও গান লিখতেন, তা শোনাতে ছুটে আসতেন বাখরাহাটের এই যুগলকিশোর পালের কাছে। যুগলবাবুকে তিনি মাস্টারমশাই বলে ডাকতেন। যুগলবাবুর বাড়ির নীচতলার ঘরে বসে চলত নতুন লেখা গানের রাগ নিয়ে মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে শলা-পরামর্শ। যুগলবাবু তখন একজন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। কোন রাগ-এর উপর গানটি করা যায়, তা বলে দিতেন তিনি। এরপর যুগলবাবুর জার্মান জুবিলেট রিড হারমোনিয়ামে তোলা হতো সেই গান। নজরুল ও যুগলবাবুর যুগলবন্দিতে সেই গানের সুর ছড়িয়ে পড়ত চারদিকে। পালবাড়ির অন্দরমহলের সকলে মুগ্ধ হয়ে তা শুনতেন। এখনও সেই হারমোনিয়াম সযত্নে রাখা আছে পালবাড়িতে।



