Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিদ্রোহী কবি ও যুগলবাবুর যুগলবন্দি ছেয়ে ফেলত বাখরাহাটের পালবাড়ি

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাখরাহাটের বড় কাছারি মন্দির থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্ব মাখালিয়া মধ্যমপাড়া।

বিদ্রোহী কবি ও যুগলবাবুর যুগলবন্দি ছেয়ে ফেলত বাখরাহাটের পালবাড়ি
  • ২৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বজবজ: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাখরাহাটের বড় কাছারি মন্দির থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্ব মাখালিয়া মধ্যমপাড়া। এখানেই গাছগাছালি আর পুকুর ঘেরা একটি বাড়ি দেখা যাবে। বাড়িটি এক সময়ের বেতারশিল্পী ও মিনার্ভা থিয়েটারের নামী প্লে ব্যাক সিঙ্গার যুগলকিশোর পালের। এইচ এম ভি এক সময়ে তাঁর একাধিক লং প্লে রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই গুণী শিল্পীর সঙ্গে কবি নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কবি যখনই নিজের নতুন কোনও গান লিখতেন, তা শোনাতে ছুটে আসতেন বাখরাহাটের এই যুগলকিশোর পালের কাছে। যুগলবাবুকে তিনি মাস্টারমশাই বলে ডাকতেন। যুগলবাবুর বাড়ির নীচতলার ঘরে বসে চলত নতুন লেখা গানের রাগ নিয়ে মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে শলা-পরামর্শ। যুগলবাবু তখন একজন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। কোন রাগ-এর উপর গানটি করা যায়, তা বলে দিতেন তিনি। এরপর যুগলবাবুর জার্মান জুবিলেট রিড হারমোনিয়ামে তোলা হতো সেই গান। নজরুল ও যুগলবাবুর যুগলবন্দিতে সেই গানের সুর ছড়িয়ে পড়ত চারদিকে। পালবাড়ির অন্দরমহলের সকলে মুগ্ধ হয়ে তা শুনতেন। এখনও সেই হারমোনিয়াম সযত্নে রাখা আছে পালবাড়িতে।

Advertisement

নজরুল ইসলাম যখন পালবাড়ি আসতেন, তখন একটি নির্দিষ্ট ঘরে থাকতেন। তিনি খাদ্যরসিক ছিলেন। তাই যখনই আসতেন, তখনই যুগলবাবুর স্ত্রী রাধারানীদেবী বিদ্রোহী কবির পছন্দের খাবার দেশি মুরগির কষা মাংস এবং পরোটা করে দিতেন। প্রতিবছর কবির জন্মদিনের এই সময় টানা এক সপ্তাহ ধরে নজরুল ইসলাম যে ঘরে থাকতেন, সেই ঘরে কবি এবং যুগলবাবুর সম্পর্কের স্মৃতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। গান ও কবিতাপাঠ চলে। সেই সময়ের নানা ঘটনার কথা উঠে আসে। যুগলবাবুর নাতি রামরাবণ পাল বলেন, আমার ঠাকুমা রাধারানী পালের কাছ থেকে শুনেছি, প্রতি মাসে একবার করে কবি আসতেন এই বাড়িতে। কবিকে আনার জন্য দাদু তাঁর অস্টিন মরিস গাড়ি পাঠিয়ে দিতেন মাঝেরহাট স্টেশনে। বাবা বলাইচাঁদ পাল সেই গাড়ি চালিয়ে কবিকে নিয়ে আসতেন।  এই হারমোনিয়াম নিয়ে গান চর্চায় মগ্ন থাকতেন নজরুল। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ