নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কোনো রাজনৈতিক দলের নাম করলেন না। কিন্তু, রাজ্যপাল আর এন রবি বর্ধমানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মসূচিতে এসে ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিলেন এ রাজ্য পিছিয়ে পড়ার জন্য আগের সরকারগুলি দায়ী। শুক্রবার দেওয়ানদিঘির একটি বেসরকারি স্কুলের হলে অশোক সিংহলের জন্মশতবর্ষ স্মরণে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। রাজ্যপাল বলেন, ভারতের বিকাশ দ্রুত হচ্ছে। বাংলা এক সময় এগিয়েছিল। পরে পিছিয়ে যায়। বিকশিত ভারতে আবার বাংলা প্রথম সারিতে থাকবে।
রামমন্দির তৈরি নিয়েও গর্ব প্রকাশ করেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, অশোক সিংহল মনে করলে নিশ্চিন্তে সুখের জীবন কাটাতে পারতেন। তিনি সম্পন্ন পরিবারের সদস্য ছিলেন। কিন্তু,তিনি রাষ্ট্রের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। হিন্দুত্ব বাদ দিয়ে দেশ নয়। হিন্দুত্বের হৃদয় অনেক বড়। রামমন্দির নির্মাণ সারা বিশ্ব দেখেছে। স্বাভিমান জাগ্রত হয়েছে রামমন্দির তৈরির মাধ্যমে। তিনি আরও বলেন, বাংলায় বহু মহাপুরুষ জন্মেছেন। দেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ে নেতাজির অবদান ভুললে হবে না। আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। প্রেরণা জুগিয়ে ছিলেন। স্বাধীনতার আগে হিন্দু সম্রাটদের অবদানের কথাও রাজ্যপাল তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেন তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠানে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র সহ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। হিন্দু ধর্মের জাগরণ ঘটাতে আগামী দিনে কর্মসূচি আরও বেশি করে নেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়। এদিন রাজ্যপালকে স্বাগত জানান পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল, পুলিশ সুপার পুষ্পা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মীরা এসেছিলেন। আরএসএস সংগঠনের শিকড় আরও ছড়ানোর জন্য একাধিক কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৮ ও ৯ অক্টোবর আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বর্ধমানে দু’দিনের জন্য আসছেন। তিনি ওই দু’দিন একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। বেসরকারি ওই স্কুলের হলঘরে প্রায় বারশো কর্মীকে নিয়ে তিনি বৈঠক করবেন। এছাড়া উল্লাসে সংগঠনের অফিসেও তাঁর কর্মসূচি রয়েছে। তার আগে এদিনের কর্মসূচি সংগঠনের সদস্যদের বাড়তি অক্সিজেন জগিয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যপালের মুখে হিন্দুত্ব জাগরণের কথা শুনে তাঁরা খুবই উৎসাহিত। পাশাপাশি তিনি তুষ্টিকরণের কথাও তুলে ধরেন।