নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্পূর্ণভাবে তৈরি ফ্ল্যাট কবে ক্রেতার হাতে তুলে দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে আগেভাগেই লিখিত চুক্তি থাকে আবাসন নির্মাতাদের। সেই চুক্তির খেলাপ করলে, আইনি সুরাহা পেতে পারেন ক্রেতা। তবে যে-সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাটের চাবি ক্রেতার হাতে তুলে দেওয়ার কথা, সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে, বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় পায় আবাসন নির্মাতা সংস্থা। এরাজ্যে আবাসন সংক্রান্ত যে রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি বা ‘রেরা’ আছে, তাদের হাতে আইনি ক্ষমতা রয়েছে সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য। কিন্তু তারা কতটা সময় বাড়াতে পারে? সাম্প্রতিক একটি মামলায় রায় দেওয়া হয়েছে, একবছরের বেশি সময় পাবে না নির্মাতা সংস্থা।
হাওড়ার একটি আবাসন প্রকল্প শেষ করার জন্য সময়সীমা ধার্য হয়েছিল ২০১৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে। কিন্তু প্রকল্পটির নির্মাণকাজের মাঝেই চলে আসে করোনা পর্ব। এক্ষেত্রে নির্মাণে সমস্যা হওয়ায়, রেরা-র তরফে আরও নমাস সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়। নতুন সময়সীমা ঘোষিত হয় ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ। কিন্তু গোল বাধে অন্য জায়গায়। কিছু কারণ দেখিয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় হাওড়া কর্পোরেশন। তার বিরুদ্ধে ফের মামলা মকদ্দমা হয়। জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে দুবছর বাদে নির্মাণ কাজ শুরুর নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। ফের রেরা-র কাছে আবাসন সংস্থাটি আবেদন করে, তাদের কাজ শেষের সময়সীমা বাড়ানো হোক। কারণ, দীর্ঘদিন তাদের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে হয়েছিল। আবেদন মঞ্জুর হয় এবং নয়া সময়সীমা ধার্য হয় ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এদিকে এক ক্রেতার সঙ্গে নির্মাতা সংস্থাটির চুক্তি হয়েছিল, তাঁকে ফ্ল্যাট দিতে হবে ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে। স্বাভাবিকভাবেই তিনি সেই ফ্ল্যাট ওই সময়ের মধ্যে পাননি। যেহেতু তিনি তা পাননি, তাই বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেন অ্যাপিলেট ট্রাইবিউনালে। সেই মামলার রায়ে কী বলছে ট্রাইবিউনাল? সংস্থার চেয়ারপার্সন হিসেবে বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্ত এবং প্রশাসনিক সদস্য সুব্রত মুখোপাধ্যায় তাঁদের রায়ে বলেছেন, রেরা আইনের যে ধারায় নির্মাতা সংস্থাকে বেশি সময় দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তার দুটি ভাগ। প্রথমটিতে যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ, অগ্নিকাণ্ড বা সমগোত্রীয় ঘটনা ঘটে, তাহলে প্রয়োজন মতো সময়সীমা বৃদ্ধির স্বাধীনতা রেরা-র আছে। তার কোনও সীমা টানা নেই। কিন্তু তার বাইরে যদি অন্যকোনও কারণে সময়সীমা বৃদ্ধির প্রয়োজন হয়, তাহলে তা একবছরের বেশি বাড়ানো যাবে না। ফলে এক্ষেত্রেও ওই আবাসন নির্মাতা সংস্থা একবছরের বেশি সময় পাবে না। রায়ে ট্রাইবিউনাল জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর নয়, কাজ শেষ করে মালিকানা হস্তান্তর করতে হবে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যেই। পাশাপাশি, যেহেতু রেরা-র কাছে কোনও ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়নি ক্রেতার তরফে, তাই ট্রাইবিউনালও পেনাল্টি বা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিতে পারে না, জানিয়েছে ট্রাইবিউনাল।