Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিণতি! নাবালিকাকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ

রং নম্বরে ফোনকলের সূত্রে পরিচয়। সেখান থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক।

প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিণতি! নাবালিকাকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রং নম্বরে ফোনকলের সূত্রে পরিচয়। সেখান থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সম্প্রতি সেই সম্পর্ক ছেদ করায় নাবালিকা ছাত্রীকে জঙ্গলে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল প্রেমিক ও তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। রামপুরহাট থানার পুলিস জানিয়েছে, এঘটনায় গণধর্ষণ ও পকসো আইনের ধারায় মামলা শুরু হয়েছে। মূল অভিযুক্ত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দুই বন্ধুর খোঁজ চলছে। বুধবার ধৃতকে রামপুরহাট আদালতে তোলা হলে ১৪দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। 

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত বছর ২০-র যুবকের নাম ইনজামুল ইসলাম। বাড়ি পাইকর থানার কাশিমনগর গ্রামে। পাইকরের কুতুবপুর গ্রামে তার কাপড়ের দোকান রয়েছে। বছরখানেক আগে রং রম্বরে ফোনের সূত্রে মাড়গ্রাম থানা এলাকার বছর ১৫-র ওই ছাত্রীর সঙ্গে ধৃত যুবকের পরিচয় হয়। এরপর প্রায়শই ওই যুবক ছাত্রীকে ফোন করতে থাকে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীর বাবা কাজের সূত্রে ভিনরাজ্যে থাকেন। ছাত্রীর দাদু বলেন, ওই যুবককে ফোন করে নাতনির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখতে বারণ করেছিলাম। নাতনির অত্যত্র বিয়ে দেব বলে বলেছিলাম। তার নম্বর ব্লকও করে দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও সে নাতনির সঙ্গে দেখা করার জন্য বাইকে করে এই এলাকায় ঘুরে বেড়াত। রাগে ওই যুবক ন্যাড়াও হয়েছিল। 
পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরে রেজিস্ট্রেশন ও ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত কাজের জন্য রামপুরহাটে আসে ওই ছাত্রী। অভিযোগ, জাতীয় সড়কের ভাঁড়শালা মোড়ে টোটো থেকে নামে। কিছুটা হেঁটে এগিয়ে যেতেই ফাঁকা জায়গায় তার পথ আটকায় ইনজামুল। ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে জোর করে বাইকে তোলে। তাদের সঙ্গে দু’টি বাইক ছিল। মল্লারপুর ঢোকার আগে জাতীয় সড়কের ধারে জঙ্গলে ঘেরা একটি মাঠে নিয়ে যায় ওই ছাত্রীকে। অভিযোগ, রুমাল দিয়ে মুখ বেঁধে সেখানে ইনজামুল তাকে ধর্ষণ করে। সঙ্গে থাকা দুই বন্ধু তাকে সাহায্য করে। ওই দু’জনকে সে চেনে না। বিকেলের দিকে ছাত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাইকে চাপিয়ে জাতীয় সড়কের ভোল্লা ক্যানেল মোড়ের কাছে ফেলে দিয়ে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা। ছাত্রীর মা বলেন, ভোল্লা ক্যানেল মোড় থেকে মেয়ে আমাকে ফোন করে। ও হাঁটতে পারছিল না। পোশাকে কাদা ও রক্ত দেখে জানতে চাওয়ায় অত্যাচারের কথা জানায়। রামপুরহাট থানায় অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি মেডিক্যালে কলেজে মেয়েকে ভর্তি করি। ও খুব অসুস্থ। বেড থেকে উঠতে পারছে না। ছাত্রীর দাদু আরও বলেন, ওর সঙ্গে নাতনির বিয়ে দেব না বলেছিলাম। নাতনিও যোগাযোগ রাখছিল না। সেই রাগেই নাতনির এত বড় ক্ষতি করল ওই যুবক ও তার বন্ধুরা। ওদের সকলের কঠোর শাস্তি চাই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ