নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শুভেন্দু অধিকারীর দাবি মতো সাত লক্ষ নয়। এসআইআরে নাম বাদ পড়ার পরে পশ্চিমবঙ্গে ট্রাইবুনালে নতুন করে নাম তোলার জন্য আবেদন করেছেন ২২ লক্ষ ২১ হাজার ১১৮ জন। সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নতুন এক হলফনামা থেকে এই তথ্য জানা গিয়েছে। এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ডেরেক ও'ব্রায়েনের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মতো হলফনামা জমা দিয়েছে কমিশন। সেখানে বলা হয়েছে এখনও পর্যন্ত ট্রাইবুনালে মোট আবেদন জমা পড়েছে ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার ৪২৯। তার মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য বাকি ৩৭ লক্ষ ৫ হাজার ২৩৫ টি। কমিশন তার হলফনামায় স্পষ্ট জানিয়ে, এসআইআর-এ ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার পর তা তোলার জন্য আবেদনের সংখ্যা ২২ লক্ষ ২১ হাজার ১১৮ জন।
অ্যাডজুডিকেশনের পর বাদ পড়েছিল ২৭.১৬ লক্ষ ভোটার। এই ভোটার ও আগেই বাদ যাওয়া অর্থাৎ সামগ্রিক এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ যাওয়া ২২.২১ লক্ষ ভোটার তাঁদের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করেছেন। অর্থাৎ, গত আগস্ট মাসের গোড়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে তথ্য দিয়েছিলেন, তা আদতে ভুল বলেই প্রমাণ হচ্ছে। কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী? গত ১ আগস্ট ২০২৬, পশ্চিমবঙ্গে ২০২৭-এর জনগণনা কর্মসূচি উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষের নাম বিবেচনাধীন ছিল। কিছু নাম উঠেছে। ট্রাইবুনাল হয়েছে। সাত লক্ষ মানুষ ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। ২০ লক্ষের তরফে কোনও রেসপন্ড করা হয়নি। অথচ এখন দেখা গেল সেই সংখ্যা ২২ লক্ষ।
সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর ইস্যুতে ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তির ধীর গতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের এসআইআর সেলের চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ বসু শনিবার বলেন, নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্যের ফলে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্ধৃত ৭ লক্ষ সংখ্যাটি ভুল বলে প্রমাণিত হল। এত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল একটি বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত, বিশেষত বিষয়টি যেখানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন।