Bartaman Logo
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চ্যাট জিপিটি দেখে টুকলি: ধরা পড়ে আত্মঘাতী আইআইটির পড়ুয়া

সকালে পরীক্ষায় ‘চ্যাট জিপিটি’ দেখে ‘টুকলি’ করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন। সন্ধ্যায় হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয় আইআইটি বম্বের দ্বিতীয় বর্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া ২২ বছর বয়সি সাহিল ওয়াকড়ের নিথর দেহ।

চ্যাট জিপিটি দেখে টুকলি: ধরা পড়ে আত্মঘাতী আইআইটির পড়ুয়া
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সকালে পরীক্ষায় ‘চ্যাট জিপিটি’ দেখে ‘টুকলি’ করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন। সন্ধ্যায় হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয় আইআইটি বম্বের দ্বিতীয় বর্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া ২২ বছর বয়সি সাহিল ওয়াকড়ের নিথর দেহ। দেশের প্রথম সারির উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে শিক্ষামহলে। বছরদুয়েক ধরেই দেশের বিভিন্ন আইআইটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদের আত্মহনন অথবা রহস্যমৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। আইআইটি খড়্গপুর, আইআইটি কানপুর, আইআইটি দিল্লিতে মোট পাঁচজন পড়ুয়ার একই পরিণতি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল হলেও এই প্রবণতায় রাশ টানা যায়নি। সেই তালিকায় নয়া সংযোজন শুক্রবার আইআইটি বম্বের পাওয়াই ক্যাম্পাসের এই ঘটনা। সাহিলের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে একটি এফআইআরও দায়ের করেছে মুম্বই পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্তও। আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষ অবশ্য এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র শুক্রবার সন্ধ্যায় আত্মহত্যা করেছেন। ওই দিন পরীক্ষার সময় তাঁকে পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চ্যাট জিপিটি-তে আপলোড করে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে পরীক্ষক এবং বিভাগীয় প্রধান কথা বলেন। তাঁকে এও জানানো হয় যে, এই ঘটনার কারণে তাঁর পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না।’ কর্তৃপক্ষের দাবি, এরপর সাহিল তাঁর হস্টেলের ঘরে ফিরে যান। সন্ধ্যায় সেই ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় সাহিলের দেহ।

Advertisement

যদিও সেই দাবি মানতে নারাজ সাহিলের সহপাঠীরা। তাঁদের অভিযোগ, সম্পূর্ণ সত্যি কথা বলছে না কর্তৃপক্ষ। সাহিলকে এক বছরের জন্য সাসপেন্ড করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, কাউকে সাসপেন্ড করা হলে তাঁকে হস্টেল ছেড়ে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হয়। সহপাঠীদের দাবি, এমন শাস্তির ভয় ও মানসিক চাপই সাহিলকে চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আইআইটি বম্বের পাওয়াই ক্যাম্পাসে বড়ো আকারের বিক্ষোভ শুরু হয় শনিবার। ৪০০-র বেশি ছাত্রছাত্রী সেই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন। আইআইটি বম্বের ডিরেক্টরের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়। বিক্ষোভে অংশ নেন সাহিলের বাবা-মা’ও। ছেলের আত্মঘাতী হওয়া তাঁরা মানতে পারছেন না। সাহিলের মায়ের অভিযোগ, ‘আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে। আমি বিচার চাই!’  
গত সাত মাসে আইআইটি বম্বের পাওয়াই ক্যাম্পাসে এটি তৃতীয় আত্মহত্যার ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটিতে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় প্রবেশের বিধিনিষেধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীরা। চাপের মুখে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন আইআইটি বম্বের ডিরেক্টর অধ্যাপক শিরীষ কেদারে। আশ্বাস দেন, সাহিলের মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ছাত্রদের তোলা অন্যান্য অভিযোগও ওই কমিটি খতিয়ে দেখবে। 
জানা যাচ্ছে, সামগ্রিক বিষয় নিয়ে শীঘ্রই জরুরি বৈঠকে বসার চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষামন্ত্রক। বারবার কেন আইআইটিগুলোকে কাঠগড়ায় উঠতে হচ্ছে? প্রধানত এর কারণ খতিয়ে দেখার উদ্দেশ্যেই শিক্ষামন্ত্রকের সম্ভাব্য ওই বৈঠক হতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ