ডিলিটেড ভোটারদের জন্য নতুন ফর্ম আনছে কমিশন! সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনায় জবাব কোণঠাসা জ্ঞানেশদের
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ‘ফর্ম ৬ নতুন ভোটারদের জন্য। সেখানে আবেদনকারীদের স্পষ্ট ঘোষণা করতে হয়, তাঁরা আগে কখনও ভোট দেননি। তাহলে খসড়া তালিকা থেকে ডিলিট হওয়া ভোটারদের কেন ফর্ম ৬ দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে? তারা তো আগেই ভোটার তালিকায় ছিলেন!’ বুধবার দিল্লির এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনকে রীতিমতো ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ—ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন, বাদ এবং সংশোধনের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬,৭ ও ৮-এর ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন করতে পারে না কমিশন। এগুলি একটি নির্দিষ্ট বিন্যাস মেনে তৈরি। শীর্ষ আদালতের তোপের মুখে কমিশনের আইনজীবী শেষপর্যন্ত জানিয়ে দেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের (বিভিন্ন ক্যাটিগরির) নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য নতুন একটি ফর্ম দিতে ইচ্ছুক কমিশন। সেটিকে ‘ফর্ম ৬’ বলা হবে না।

Advertisement

এসআইআরে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ফর্মে বদল নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির কথা ফাঁস হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। নতুন ভোটারের অভিভাবকদের নাম আগের এসআইআরে ছিল কি না, তা নিয়ে ‘স্ব-ঘোষণাপত্র’ দিতে হচ্ছিল। দুই নির্বাচন কমিশনারের অভিযোগ ছিল, এটা বেআইনি কাজ। এরপরই ‘ভোটচুরি’র অভিযোগকে সামনে রেখে কমিশন ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে একযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করায় বিরোধী দলগুলি। চাপের মুখে সুপ্রিম কোর্টের ঘাড়ে এই বদলের দায় ঠেলে কমিশন। কিন্তু তা পুরোপুরি অস্বীকার করে শীর্ষ আদালত। পরে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় কমিশন জানায়, ‘ফর্ম ৬’ বদল করা হয়নি। ‘স্ব-ঘোষণাপত্র’ একটি পৃথক নথি। এদিন দিল্লি এসআইআর নিয়ে অঞ্জলি ভরদ্বাজ ও অমৃতা জোহরির এই রিট পিটিশনের শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে— ফর্ম ৬,৭ ও ৮ পরিবর্তন করতে পারে না কমিশন। ‘ফর্ম ৬’-এর উপর বিশেষ জোর দিয়ে শীর্ষ আদালত আরও বলে, ‘এটি শুধুমাত্র নতুন ভোটারদের জন্য। ডিলিট হওয়া ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেনই বা ফর্ম ৬ পূরণ করতে বলা হচ্ছে? দিল্লিতে এমন প্রচুর মানুষ রয়েছেন, যাদের কাছে ইনিউমারেশেন ফর্ম পৌঁছায়নি। তাঁরা হয়তো ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন বা কাজের জন্য সাময়িকভাবে শহরের বাইরে গিয়েছেন। তাঁদের ইনিউমারেশন ফর্ম, ফর্ম ৮ (ঠিকানা পরিবর্তন-সংশোধন) পূরণ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না কেন? ফর্ম ৬ চাপিয়ে দেওয়ার কারণ কী?’ শুনানিতে হাজির মামলাকারীদের আইনজীবীও জানান, দিল্লিতে বাদ পড়া ৪৭ লক্ষের মধ্যে ৪৩ লক্ষকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। এরা কেউ ইনিউমারেশন ফর্ম পাননি। তাদের ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে আবেদন জানাতে বলা হয়েছে।
দিল্লিতে এসআইআর চলাকালীন ভোটার তালিকায় নাম তোলার শেষ দিন ৩০ অক্টোবর। কমিশনের এই  ডেডলাইন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের বক্তব্য, ‘অদূর ভবিষ্যতে রাজধানী দিল্লিতে কোনো নির্বাচন নেই, তাহলে কেন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে? ফের নাম অন্তর্ভুক্তির করার জন্য কোনো ‘কাট-অফ ডেট’ নির্ধারণ করবেন না। যে সমস্ত ভোটার নানা কারণে তাঁদের ইনিউমারেশন ফর্ম জমা দিতে পারেননি, তাদের ফর্ম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সহজতর সমাধানের পথ বের করতে হবে কমিশনকে।’ ফর্ম ৬ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এহেন পর্যবেক্ষণে ফের অক্সিজেন পেল বিরোধী শিবির। আরও বিপাকে কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমার।