নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকের বিধান পরিষদ নির্বাচনে মোট ২৮ আসনের মধ্যে ১২টিতে প্রার্থী দিয়েছিল কংগ্রেস। যদিও একটি আসনও জিততে পারেনি হাত শিবির। এরপরই নরেন্দ্র মোদি বুধবার তীব্র কটাক্ষ করে সোস্যাল মিডিয়ায় বললেন, বিধান পরিষদে ব্যালট পেপারে ভোট হয়েছে। কংগ্রেস কত আসন পেল বলুন তো? মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ইভিএমের বিরুদ্ধে রাহুল তথা বিরোধীদের আন্দোলনকে মোদি যে টার্গেট করলেন সেটা স্পষ্ট। কিন্তু বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল স্বয়ং মোদির জন্য মোটেই সুসংবাদ নিয়ে আসেনি। কারণ, ব্যালট পেপারে ভোট হয়েছে এবং মোদির নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীর দু’টি আসনেই বিজেপি পরাজিত হয়েছে। বারাণসী স্নাতক এবং বারাণসী শিক্ষক উভয় আসনেই মোদির দল পরাস্ত সমাজবাদী পার্টির কাছে। এখানেই শেষ নয়। উত্তরপ্রদেশের ১১ আসনের মধ্যে বিজেপি ছয় এবং সমাজবাদী পার্টি পাঁচ আসনে জয়ী হয়েছে। এই ফল মোদি ও যোগীর পক্ষে একটি বিপদ সংকেত।
কংগ্রেস শূন্য আসন পেয়েছে বলে মোদির কটাক্ষকে প্রত্যাঘাত করেছেন কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা। বলেছেন, মোদিজি যখন এতই আত্মবিশ্বাসী যে ইভিএম অথবা ব্যালট পেপারে উভয় ক্ষেত্রেই বিজেপি জয়ী হয়, তাহলে আমরা চ্যালেঞ্জ করছি, এবার ব্যালটে ভোট করান। এসআইআর বাতিল করুন। ইভিএম বাতিল করে ব্যালট পেপারে ভোটের ব্যবস্থা করার সাহস যে আপনার নেই সেটা আমরা জানি।
বস্তুত উত্তরপ্রদেশের লখনউ, এলাহাবাদ, আগ্রা, বারাণসীর মতো শহুরে এলাকার শিক্ষক ও স্নাতক দুই প্রকার আসনেই বিজেপি পরাজিত হয়েছে। বিধান পরিষদে স্নাতক আসনের অর্থ হল একমাত্র স্নাতক ভোটাররাই ভোট দিতে পারবে। আর শিক্ষক আসনে শিক্ষকসমাজ ভোট দেওয়ার অধিকারী। প্রশ্ন উঠছে, এই ফল থেকে কি স্পষ্ট হচ্ছে যে শিক্ষিত সমাজ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করছে? একইভাবে পাটনা আসন ৩০ বছর পর বিজেপির হাতছাড়া হয়েছে। দ্বারভাঙ্গা আসনে জয়ী হয়েছে প্রশান্ত কিশোরের দল। মহারাষ্ট্রে বুধবার রাত পর্যন্ত গণনা চলছে। মারাঠাওয়াড়া আসনে শারদ পাওয়ারের দল এগিয়ে।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে খোদ অযোধ্যায় বিজেপি পরাজিত হয়েছিল। এবার বিধান পরিষদ আসনে কাশীর দুই আসনেও বিজেপির পরাজিত হল। সমাজবাদী পার্টি বলেছে, প্রথমে রাম এবং এখন মহাদেব, বিজেপির উপর রুষ্ট। অতএব মোদির বিদায় আসন্ন। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে ভোট। বিজেপির কাছে সবথেকে বড় প্রেস্টিজ ফাইট। ২০২৯ সালের আগে একপ্রকার সেমিফাইনাল। আগামী বছরের ৬ রাজ্যের বিধানসভার ভোট। তার ঠিক আগেই উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির চমকপ্রদ ফলাফল অখিলেশ যাদবের কাছে যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। কিন্তু ২৮ আসনের বিধান পরিষদের ফলাফলে সবথেকে বড় ধাক্কা অবশ্যই কংগ্রেসের। একটিও আসনে জয়ী হতে পারেনি তারা। অথচ আঞ্চলিক বিজেপি বিরোধী দলগুলি জয়ী হয়েছে তাদের রাজ্যে। মোদির কটাক্ষের কারণ হল কংগ্রেস যে রাজ্যে সরকার চালাচ্ছে, সেই কর্ণাটকের চারটি আসনের মধ্যে একটিও পায়নি রাহুলের দল। বিষয়টি অবশ্যই রাহুল গান্ধীর কাছে অস্বস্তির বার্তা।



