সংবাদদাতা, বনগাঁ: সোমবার সকালে ছিটেফোঁটা হলেও গোটা শীতে বৃষ্টির দেখা মেলেনি। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় বাতাসে ক্রমশ বাড়ছে ধুলোর পরিমাণ, বায়ু দূষিত হয়ে উঠছে। বনগাঁ শহর এবং আশপাশের এলাকার গাছপালা ধুলোয় ভরে গিয়েছে। বসন্তের পলাশ, শিমুলের রং এখন ধূসর। আমের মুকুলও ধুলোয় ঢেকেছে। এরই মধ্যে চলছে যত্রতত্র বর্জ্য পোড়ানো। নোংরা ফেলে রাখায় শহরে দূষণ আরও বাড়ছে। বাতাসে বাড়ছে কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন গ্যাসের পরিমাণ। এর সঙ্গে আবার জুড়েছে রাস্তার যানজট এবং ফুটপাতে উনুন জ্বালিয়ে রান্না।
সাধারণত শীতের মাঝে ও শেষের দিকে প্রতি বছর বৃষ্টি হয়। কিন্তু এদিন সকালে দু’এক ফোঁটা ছাড়া এই বছর শীতকালীন বৃষ্টির দেখা মেলেনি। শুকিয়ে গিয়েছে পথঘাট। যানবাহন গেলেই ধুলোয় ভরছে চারদিক। বনগাঁ-বাগদা সড়ক দিয়ে যাত্রা এখন এলাকার বাসিন্দাদের কাছে নরকযাত্রা হয়ে উঠেছে। খানাখন্দে ভরা রাস্তাটিতে ধুলোর দাপটের ফলে ছড়াচ্ছে দূষণ। বাড়ছে ফুসফুসের রোগ। অনেকেই বাধ্য হয়ে মাস্ক পরে চলাচল করছেন। বনগাঁর এক বাসিন্দা সুজয় দাস বলেন, রোজ কাজের সূত্রে বাগদা যেতে হয়। বাইকে যাওয়ার সময় ধুলোয় ভরে যায় গোটা শরীর। মাস্ক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি। কাশি, হাঁচি সহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বনগাঁ থেকে সভাইপুর রুটের এক অটোচালক অমল মণ্ডল বলেন, রাস্তায় ধুলোর দাপট এতটাই যে একবার গেলেই শরীর ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে। গাড়ির রং বদলে যাচ্ছে। ধুলোয় নাজেহাল হয়ে রাস্তার পাশের বাসিন্দারা ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। রাস্তার পাশের ব্যবসায়ীরাও নাজেহাল। ধানচাষে অনেকটাই সহায়ক হয়ে ওঠে শীতের বৃষ্টি। তবে এবছর বৃষ্টি না হওয়ায় ধানচাষে সেচের জল দিতে বাড়তি খরচ বহন করতে হয়েছে কৃষকদের। বাগদার কৃষক মৃদুল বিশ্বাস বলেন, শীতের বৃষ্টি ধানচাষে অনেকটাই সহায়ক হয়। কিন্তু এবছর শীতে বৃষ্টির দেখা মেলেনি। ফলে সেচের বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে।