Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দোলে শহর মাতাবে ‘গুলাল গান’, হাতের সমরাস্ত্রে সবাইকে ‘ভূত’ বানাতে তৈরি খুদেরা

পিঠে ব্যাগ। হাতে বন্দুক। ব্যাগে রং গোলা জল। ব্যাক প্যাক পাইপ দিয়ে যুক্ত বন্দুকের সঙ্গে। ট্রিগার টিপলেই প্রতিপক্ষকে ভিজিয়ে একেবারে চুপচুপে করে দেবে।

দোলে শহর মাতাবে ‘গুলাল গান’, হাতের সমরাস্ত্রে সবাইকে ‘ভূত’ বানাতে তৈরি খুদেরা
  • ১১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিঠে ব্যাগ। হাতে বন্দুক। ব্যাগে রং গোলা জল। ব্যাক প্যাক পাইপ দিয়ে যুক্ত বন্দুকের সঙ্গে। ট্রিগার টিপলেই প্রতিপক্ষকে ভিজিয়ে একেবারে চুপচুপে করে দেবে। 

Advertisement

প্রতিপক্ষটির আবার জল পছন্দ নয়। তার হাতে পেটমোটা ভয়ঙ্কর দেখতে একটি রংচঙে বন্দুক। সেটির পেটে কয়েকটি সেল রয়েছে। ট্রিগার টিপলেই বন্দুকের নল দিয়ে বেরবে শুকনো আবির। চারপাশ ধোঁয়া ধোঁয়া হয়ে যাবে। প্রতিপক্ষ পালানোর পথ পাবে না। এই সব মারাত্মক সমরাস্ত্র বাজারে তাল ঠুকছে। দোলের দিন বেরবে ছাদে, উঠোনে, রাস্তায়, গলিতে, মাঠে, আবাসনের ক্যাম্পাসে। অস্ত্রের মালিকদের বয়স খুব বেশি হলেও চার থেকে ১০ বছর। যুদ্ধের সিনেমায় বা ভিডিও গেমসে এই আগ্নেয়াস্ত্রের মতো দেখতে ‘ফ্লেমথ্রোয়ার’ বা ‘কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানোর বন্দুক’ হামেশাই দেখা যায়। সেগুলির আদলে তৈরি অস্ত্রগুলিই এই দোলে উঠতে চলেছে খুদেদের হাতে।
কলকাতার ক্যানিং স্ট্রিট ও অন্যান্য দোকানে দোলের বাজার এখন রীতিমতো জমজমাট। ব্যাগে জল থাকা বন্দুকটির নাম, ‘ট্যাঙ্ক গান’। দাম? ট্যাঙ্কের সাইজের উপর নির্ভর করছে। ছোট ব্যাক প্যাক সহ বন্দুকের দাম ২২০ টাকা। বড়গুলির দাম হাজার দেড়েক। এক ব্যবসায়ীর কথায়, ‘ব্যাক প্যাকের চাহিদা এবার বেশি। ছোটা ভিম, স্পাইডারম্যানের ছবি দেওয়া ব্যাগের বিক্রিই বেশি।’ আবিরের সেল ভরা বন্দুকের নাম, ‘গুলাল গান’। দাম ১৪০ টাকা। আবিরের আলাদা সেল। পাঁচটি সেলের দাম ২৬০। বড়বাজারের এক ব্যবসায়ী বললেন, ‘নতুন কিছু বাজারে এলে তার চাহিদা থাকে। তাই নতুনগুলির দামও বেশি।’ হাওড়া থেকে দোলের বাজার করতে এসেছিলেন রং ব্যবসায়ী সুবল রায়। বললেন, ‘ব্যাক প্যাকের দাম একটু বেশিই। বাচ্চারা দেখেই বায়না জুড়ছে। দেখতে এতটাই ভালো যে বাচ্চাদের কথা ছাড়ুন আমাদের মতো বড়দেরও দারুণ লাগছে।’
বন্দুকের সম্ভার কিন্তু এখানেই শেষ নয়। বাজারে রয়েছে রকমারি ‘ওয়াটার গান’। এখন আর বালতি থেকে রং নিয়ে বন্দুকে ভরে ব্যবহারের অবকাশ নেই। হতে সময় কম। বন্দুকের ভিতরেই থাকবে রং ভরার পেল্লাই ট্যাঙ্ক। তা কাঁধে নিয়ে ট্রিগারে আঙুল রাখলেই সামনের মানুষটি একেবারে ভূত। যদিও এসবের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে চিরাচরিত সেই পিচকারি, আবির, জল ভরা বেলুনও। ছেলের জন্য পিচকারি কিনতে এসে বেহালার শ্রাবন্তী সাহা বললেন, ‘অনলাইনে দেখছিলাম। ছেলেও দেখল। তারপরই বায়না। এখানে হাতে নিয়েও দেখলাম। বেশ আকর্ষণীয়। অনেক ভ্যারাইটি দেখছি। ছেলে খুব আনন্দ পাবে। কিনেই ভালো লাগছে।’  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ