Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৩৮.২ ডিগ্রিতেই ত্রাহি ত্রাহি রব মহানগরে, হাসপাতালের আউটডোরে ভিড় বাড়ছে গরমে অসুস্থদের

তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। গরমে পুড়ছে কলকাতা! বুধবার দিনভর এতটাই অস্বস্তিকর গরম ছিল যে যাঁরাই কা঩জে বেরিয়েছেন, হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন অবস্থাটা।

৩৮.২ ডিগ্রিতেই ত্রাহি ত্রাহি রব মহানগরে, হাসপাতালের আউটডোরে ভিড় বাড়ছে গরমে অসুস্থদের
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। গরমে পুড়ছে কলকাতা! বুধবার দিনভর এতটাই অস্বস্তিকর গরম ছিল যে যাঁরাই কা঩জে বেরিয়েছেন, হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন অবস্থাটা। জল খেয়ে, একটু বিশ্রাম নিয়েও অস্বস্তিবোধ কাটিয়ে উঠতে পারেননি। অনেকেকে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। রা঩জ্যের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল সূত্রে খবর, আউটডোরগুলিতে গরমে অসুস্থ রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ডিহাইড্রেশন, প্রচণ্ড ক্লান্তি, বমিভাব, মাথা ঘোরার সমস্যা নিয়ে বেশ কিছু রোগী মেডিক্যাল কলেজ, পিজি’র মতো বড় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও আসছেন। বুধবার কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (৩৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি বেশি) ছিল চলতি গরমের মরশুমে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এদিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ছিল ৩০ ডিগ্রির কাছাকাছি। ফলে অস্বস্তি থেকেছে দিনভর। একটি নির্দিষ্ট আবহাওয়া মডেল অনুযায়ী, এদিন শহরে গরমের যে অনুভূতি মিলেছে, তা ৪১ ডিগ্রির সমতুল্য। 

Advertisement

এই জ্বালাপোড়া গরমে হিটস্ট্রোকেও আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। আলিপুরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালের পদস্থ কর্তা সুপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, ‘হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে সোমবার ৫২ বছর বয়সি এক ব্যক্তি ইমার্জেন্সিতে এসেছিলেন। তাঁর প্রেশার, সুগার সবই অস্বাভাবিক ছিল। বেশ কিছুক্ষণ রেখে স্থিতিশীল করে তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়। রোজ অন্তত এরকম ২০ জন রোগী আউটডোরে আসছেন।’ চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই সময় কোনওভাবে কালো জামা পরা যাবে না। সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরাই ভালো। অনুষ্ঠানবাড়ি বা কর্পোরেট বৈঠকেও স্যুট-টাই ইত্যাদি কেতাবি পোশাক এড়িয়ে যাওয়া ভালো। অন্তত তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার জলপানের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। 
মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিনের প্রধান ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ বলেন, ‘যাঁরা প্রেশার, নাড়ির গতি কমানোর ওষুধ (বিটাব্লকার জাতীয়) খাচ্ছেন, তাঁরা বিশেষ সতর্কতা নেবেন। হিট এগজরশন (অবসন্নতা, অস্বস্তি), হিট ক্র্যাম্প (গা হাত পায়ে ব্য‌থা, তীব্র অস্বস্তিবোধ) এবং আরও তীব্র অস্বস্তির জন্য কারও হিট স্ট্রোক (জ্ঞান হারানো, প্রেশার ফল করা, শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া) হলে অবশ্যই তাঁকে স্বস্তিদায়ক জায়গায় নিয়ে যাবেন। পর্যাপ্ত জল, ওআরএস দেওয়ার পাশাপাশি হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি।’ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হোমিওপ্যাথির প্রাক্তন অধিকর্তা ডাঃ গৌতম আশ বলেন, ‘তীব্র গরমে মাথাব্যথা, অস্বস্তিবোধ হলে গ্লনয়ন, ন্যাটরাম কার্ভ এবং পেট খারাপে ব্রায়োনিয়া ভালো কাজ দিতে পারে।’ বিশিষ্ট শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অপূর্ব ঘোষ বলেন, ‘বাচ্চাদের দু’বার স্নান করাতে পারলে ভালো। ডায়েটে মাংস, মাছের মতো প্রোটিনের আধিক্য যেন এই ক’দিন বেশি না থাকে। কেজি প্রতি ১০০-১৫০ এমএল হিসেব জল খাওয়ান ওদের।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ