নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: নিজের ব্যবসার উন্নতি, বাড়ি সংস্কার এবং পারিবারিক কারণে টাকার প্রয়োজন ছিল। তাই দেড় কোটি টাকার ঋণের জন্য অনলাইনে যোগাযোগ করেছিলেন বাগুইআটির কেষ্টপুরের এক মহিলা। কিন্তু ঋণ পাওয়া তো দূরের কথা, প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে তিনি ২৫ লক্ষ টাকা খোয়ালেন! অ্যাপ্রুভাল, প্রসেসিং ফি ইত্যাদির কথা বলে ওই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা। আর্থিক সমস্যার সমাধানের জন্য ঋণ নিতে চেয়ে ওই মহিলা এখন আরও আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। প্রতারিত হয়ে তিনি বুধবার বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। প্রতারকরা লক্ষ লক্ষ এমনকী, কোটি কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার টোপ দেয়। তারপরই বিভিন্ন নথিপত্র পাঠাতে বলে। শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন ফি বাবদ টাকা হাতিয়ে নেয়। যাঁরা আবেদন করেন তাঁরা ভাবেন, ওই টাকা দিলেই ঋণ মঞ্জুর হয়ে যাবে। কিন্তু সমস্ত ফি দেওয়ার পরও ঋণ মেলে না! কেষ্টপুরের ওই মহিলা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন বুঝতে না পেরে তিনি কয়েক দফায় ২৫ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা দিয়ে ফেলেন। পরে বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। যাবতীয় ডিজিটাল নথিপত্র তিনি পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন।
অন্যদিকে শেয়ার মার্কেটে উচ্চ রিটার্নের টোপ দিয়ে ২ কোটি টাকার প্রতারণার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম, কৌশিক দেবনাথ। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এক প্রৌঢ়া ওই প্রতারণার শিকার হন। তাঁকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে বিনিয়োগ করানো হয়। প্রতারকরা তাঁর কাছ থেকে ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। তারপর সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপরই প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ওই প্রৌঢ়া বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।