নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর কলকাতার কাশীপুর রতনবাবু রোডের ধারে কয়েক বছর আগে ঢাকঢোল পিটিয়ে বসানো হয়েছিল রথ টানা দু’টি ফাইবারের ঘোড়া। বহু মানুষের নজর কাড়ছিল বিশাল মাপের সোনালি রঙের সেই ঘোড়া দু’টি। কিন্তু দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে একটি ঘোড়া মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে। ঘোড়ার পেটের অংশ ভেঙে গিয়েছে। আর সেই ভাঙা অংশেই জমেছে বৃষ্টির জল। বাড়ছে আগাছা। ভনভন করছে মশা-মাছি। এলাকার মানুষ বহুবার এই ফাইবারের ঘোড়ার সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি তুলেছেন। কিন্তু কাজ কিছুই হয়নি। ফলে যত দিন যাচ্ছে, সেখানে আবর্জনার স্তূপ বাড়ছে। স্থানীয় মানুষজন জানান, কয়েক বছর আগে ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তি ফোন করে কলকাতার তৎকালীন মেয়রকে অনুরোধ করেছিলেন ভেঙে পড়ে থাকা ঘোড়াটি যেন ঠিক করে দেওয়া হয়। না হলে বড্ড দৃষ্টিকটু লাগছে। সেই ফোন পেয়ে মেয়র নির্দেশ দিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন বিষয়টি দেখে নেয়। সেই নির্দেশের পর মেরামতিও হয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, দায়সারাভাবে কাজ করায় ক’দিনের মধ্যে ফের ভেঙে পড়ে ঘোড়াটি। তারপরও স্থানীয় কাউন্সিলার, পূর্বতন বিধায়কসহ বিভিন্ন মহলে জানানো হয়। কিন্তু আজও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। ওই পথেই পড়ে কাশীপুর রামকৃষ্ণ মহাশ্মশান, রামকৃষ্ণদেবের পদধূলিধন্য দশমহাবিদ্যা মন্দিরসহ একাধিক দ্রষ্টব্য স্থান। আছে রতনবাবু ঘাট। এই ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। ফলে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে বহু মানুষ যাতায়াত করে। অনেকেই এভাবে ফাইবারের নির্মাণটি পড়ে থাকতে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। বুধবার কথা হচ্ছিল কাশীপুর রোডের বাসিন্দা তমাল অধিকারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ওই পথ দিয়ে প্রায়ই যাতায়াত করি। ফাইবারের ওই ঘোড়াটি ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কিন্তু কেন এখনও সেটি ঠিক করা হচ্ছে না, সেটাই বড়ো আশ্চর্যের।’ চন্দ্রকুমার রায় লেনের এক বাসিন্দা বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই দেখছি, ঘোড়াটি ভাঙা। দেখা যাক, কবে প্রশাসনের টনক নড়ে।’ -নিজস্ব চিত্র



