নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসত ফ্লাইওভার মেরামতির কাজ শুরু হতেই কার্যত থমকে গিয়েছে শহরের গতি। মঙ্গলবার বিকেল থেকে আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে ফ্লাইওভার। যার জেরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজটের কবলে বারাসত। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক, যশোর রোড, কেএনসি রোড, ডাকবাংলো মোড়, চাঁপাডালি মোড়— শহরের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে লম্বা গাড়ির লাইন। অফিস টাইমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কয়েক কিলোমিটার রাস্তা পার হতে লেগে যাচ্ছে দীর্ঘ সময়। স্কুল পড়ুয়া, অফিসযাত্রী, রোগী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
দুর্ভোগের মধ্যে নতুন করে উঠেছে টোটো নিয়ে প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজ্য ও জাতীয় সড়কে টোটো চলাচল না করার জন্য একাধিক উদ্যোগের কথা বলে প্রশাসন। এজন্য একাধিক বৈঠক ও নির্দেশিকা থাকলেও তা রয়ে গিয়েছে ফাইলবন্দি হয়ে। বারাসতে এনিয়ে কোনো হেলদোল নেই কারও। তৃণমূল সরকারের সময় যেমন শহরের প্রধান সড়কে টোটো চলাচল করত এখনও সেই ছবির বিশেষ বদল হয়নি। ফলে ফ্লাইওভার বন্ধ হওয়ার পর বিকল্প রাস্তায় টোটোর অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যানজট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অভিযোগ, শুধু যানজটই নয় সুযোগ বুঝে বেড়েছে টোটোর ভাড়াও। নিত্যযাত্রীদের একাংশের দাবি, নির্দিষ্ট ভাড়ার বদলে অনেক চালক ইচ্ছামতো অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন। বাধ্য হয়ে সেই ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শহরবাসীর একাংশ।
পুলিশের দাবি, যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনও করা হয়েছে। কিন্তু শহরবাসীর একাংশের প্রশ্ন, ফ্লাইওভার দীর্ঘদিন বন্ধ থাকবে জানা সত্ত্বেও বিকল্প ট্রাফিক পরিকল্পনা আরও কার্যকর করা গেল না কেন? সেই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক উদ্যোগ বাস্তবে কেন ফলপ্রসূ হল না তা নিয়েও প্রশ্নও তুলছেন নাগরিকরা। বারাসতের ডিএসপি (ট্রাফিক) নিহার রঞ্জন রায় জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ফ্লাইওভার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তাই কয়েকটি বাসের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বক্ষণ নজরদারি চালাবে।