নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা আর হাতে ছোটো ছোটো তিন রঙা জাতীয় পতাকা নিয়ে খুদেরা। এজেসি বোস রোডে একটি স্কুলে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান পালন হল আনন্দ সহকারে। গড়িয়ার একটি আবাসন। তারা সবক’টি বাড়িতে জাতীয় পতাকা ঝুলিয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের দিন, শনিবার হবে মূল অনুষ্ঠান। বড়বাজারের পাইকারি মার্কেট বা বারাসতের বাজার, গড়িয়া থেকে শ্যামবাজার, ঢাকুরিয়া থেকে সল্টলেক, সর্বত্র অধিকাংশ বাজারে, দোকানে বিক্রি হচ্ছে জাতীয় পতাকা। পাড়ার দোকানগুলিও বাদ নেই। সেখানেও মজুত পতাকা। স্বাধীনতা দিবসের আগে প্রতি ঘরে তিরঙ্গা। শহরের প্রতিটি এলাকা ধীরে ধীরে জাতীয় পতাকায় সেজে উঠছে।
স্বাধীনতা দিবসের আগে ক্যানিং স্ট্রিটে গিয়ে দেখা গিয়েছে, পতাকার বিক্রি চলছে দেদার। দোকানগুলি তিন রঙা পতাকায় ভরে উঠেছে। সারা বাংলা থেকে ব্যবসায়ীরা পাইকারি দামে পতাকা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বিক্রি হচ্ছে তিন রঙা রাখি। এছাড়া তেরঙা রিবন, টি শার্ট, হেয়ার ব্যান্ড, তেরঙা মালা আরও অনেক কিছু বিক্রি হচ্ছে। রয়েছে জয় হিন্দ লেখা টি শার্ট। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, তেরঙা টি শার্ট ভালো পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে। দাম ৮০ টাকা এক পিস। এবছর জাতীয় পতাকার দাম খুব একটা বেশি বাড়েনি। চুঁচুড়া থেকে বড়বাজারে পতাকা কিনতে এসেছিলেন মৌমিতা চক্রবর্তী। বললেন, ‘এবার স্বাধীনতা দিবস সব জায়গাতেই বেশ জাঁকজমক সহকারে পালিত হচ্ছে। এর আগে ১০০ পিস পতাকা কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম। আরও দরকার। তাই ফের আসতে হল।’ ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, প্লাস্টিকের পতাকার তুলনায় কাপড়ের পতাকা বেশি চাইছে মানুষ। এছাড়া গাড়িতে আর বাইকে লাগানোর জন্য ছোটো ছোটো পতাকাও ভালো পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে। বেশ চাহিদা আছে। এর সঙ্গেই দোকানে মিলছে ছোটোদের জন্য তেরঙা রিস্ট ব্যান্ড, তেরঙা হেয়ার ব্যান্ড আর নানারকমের জিনিসপত্র। সবমিলিয়ে নিজের বাড়ি, আবাসন থেকে পাড়া, সর্বত্র তেরঙা সাজে সাজিয়ে তুলতে শহরবাসী স্বাধীনতা দিবসের আগে কোমর বেঁধে প্রস্তুত শহর। এছাড়া রাজনৈতিক সচেতন লোকজনও আছেন। তাঁরাও পিছিয়ে নেই। বাম মনস্কদের সংগঠন জনমঞ্চ ১৫ আগস্ট শ্যামবাজার থেকে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার পর্যন্ত ‘স্বাধীনতা দিবসে সুভাষ যাত্রা’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার নামকরা ক্লাব ৬৬ পল্লি দুর্গাপুজোর আগে স্বাধীনতা দিবসে ‘শত কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সবমিলিয়ে স্বাধীনতা উৎসব পালনে কোমর বেঁধে প্রস্তুত কলকাতা।