Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শীতলতম দিন সাক্ষী রেখেই বর্ষবরণ শহরের

কনকনে আনন্দ ছড়িয়ে চলে গেল একটা বছর। এপ্রিল-মে’মাসের ক্লেদ-ঘাম দূর করে শীতের চাদরে শহরকে মুড়ে বিদায় নিচ্ছে ২০২৫

শীতলতম দিন সাক্ষী রেখেই বর্ষবরণ শহরের
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কনকনে আনন্দ ছড়িয়ে চলে গেল একটা বছর। এপ্রিল-মে’মাসের ক্লেদ-ঘাম দূর করে শীতের চাদরে শহরকে মুড়ে বিদায় নিচ্ছে ২০২৫। ২০২৬ এবার তুমি রেজিলিউশন নাও, শীত ঢেলে, ভ্যানিলা আইসক্রিমের মতো কুয়াশায় শহরকে ঢেকে এরকমই একটা শীত উপহার দেবে পরের ডিসেম্বর-জানুয়ারি। সেই আশাতেই কিন্তু গোটা বছর অপেক্ষা করবে গোটা কলকাতা।
এমন দিনে আবহাওয়ার ডায়েরি জানাচ্ছে, শহরের তাপমাত্রা ডিসেম্বর মাসে ১১ ডিগ্রির নীচে নেমেছিল ২০১৮ সালে। সে বছর ২৯ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৬ ডিগ্রি। তার আগে ২০১১ ও ২০১২ সালে ১০’এর ঘরে ছিল তাপমাত্রা। আর এ বছর? বর্ষশেষের দিনে একটি ‘শীতলতম দিবস’ উপহার পেল শহর। পারদ দেখাচ্ছে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এদিন ছিল ১১ ডিগ্রি।

Advertisement


সামান্য পারদ পতন কিন্তু নয়। মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় দেড় ডিগ্রি কমে ১১ হয়েছে। এই ঠান্ডা সঙ্গে নিয়ে জ্যাকেট-সোয়েটারে মুড়ে উদযাপনে মাতল শহর-শহরতলি। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিপ্রান্তের মানুষ মেতে আনন্দে। রাস্তায়, রেস্তরাঁয়, পার্টিতে মজে ফূর্তিতে কাটল দিনরাত। মানুষের আনন্দের উষ্ণতায় হার মানল শহরের শীতলতা।


সকাল থেকে শহরের ‘সিগনেচার স্থান’ অর্থাত্ ময়দান-ভিক্টোরিয়া-চিড়িয়াখানায় আট থেকে আশির ভিড়। বুধবার বিকেলের দিকে বিড়লা তারামণ্ডলে লম্বা লাইন। ভিড় সেন্ট পলস ক্যাথিড্রালে। এর ফাঁকে আবহাওয়ার রিপোর্ট জানাল, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কলকাতায় ১১, দমদমে ১০, সল্টলেকে ১১.৪, কল্যাণীতে সাত ডিগ্রি।
ডায়মন্ড হারবার থেকে একদল তরুণ-তরুণী এসেছিলেন কলকাতায়। ‘৩১ ডিসেম্বর তো আমরা বেরবই। পুজোয় এবং বছরের শেষদিনে আমরা বন্ধুরা সকলে মিলে বের হই।’ বছরের শেষ সূর্যাস্ত ক্যামেরাবন্দি করতে বিকেল হতেই অনেকে দৌড়লেন ময়দানের দিকে। এক খুদের কথায়, ‘বছর শেষ তো, সূর্যাস্ত দেখতে হবে।’ এক তরুণ বললেন, ‘সূর্যোদয় দেখা হয় না। বছর শেষের সূর্যটাকে শেষবার দেখে নিতে হবে।’ এবার পরিকল্পনা কী? অনেকের কথায়, ‘সেই একই পার্কস্ট্রিটে হেঁটে যাওয়ার কোনও মানে হয় না। ঠান্ডার মধ্যে হেঁটে কী হবে?’ তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হল দলের মধ্যে। একজন বললেন, ‘কিছুটা হেঁটে তারপর কোনও একটা রেস্তরাঁয় ঢুকে যাব।’ এমন দিনে কি চাইলেই রেস্তরাঁয় জায়গা মিলবে? তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে দে পরিবার। তাঁরা ট্রেন ধরে মেদিনীপুর ফিরবেন। তাঁরা চিকেন রোল খেলেন।
সামনের বছর এরকমই ঠান্ডার প্রত্যাশা। আবহাওয়া দেবতার কাছে এই প্রার্থনা জানিয়েই এ বছরকে বিদায় জানাল শহর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ