Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বর্ষাকাল এগনোর সঙ্গে রাজ্যে বদলে যাচ্ছে ঝড়বৃষ্টির চরিত্র

রাজ্যে বর্ষাকাল এগিয়ে আসার সঙ্গে ঝড়বৃষ্টির চরিত্র পরিবর্তন হচ্ছে। কলকাতায় ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

বর্ষাকাল এগনোর সঙ্গে রাজ্যে   বদলে যাচ্ছে ঝড়বৃষ্টির চরিত্র
  • ৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি বজায় থাকলেও রাজ্যে বর্ষা কবে নাগাদ আসবে তা এখনো জানায়নি আবহাওয়া দপ্তর। তবে বর্ষা মরশুম এগিয়ে আসার জন্য রাজ্যে ঝড়বৃষ্টির চরিত্র বদলাতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে যে ঝড়বৃষ্টি হয়েছে তাতে এর ইঙ্গিত মিলেছে। দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। রাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড  হয়েছে বীরভূমের তিলপাড়া বাঁধে (১৪৫.৮ মিমি)। সিউড়িতে ৯৯ মিমি,  বর্ধমানে ৮৪ মিমি, দমদমে ৬০ মিমি, সল্টলেকে ৪১ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। কলকাতায় (আলিপুর) এইসময়ে ২২.৬ মিমি, বারাকপুরে ৩০ মিমি, ক্যানিংয়ে ৪১ মিমি, বহরমপুরে ৩৭ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে আগামী কয়েকদিনে রাজ্যে ঝড়বৃষ্টি চলবে।

Advertisement

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, বর্ষা এগিয়ে আসার জন্য বাতাসে জলীয় বাষ্পের মাত্রা বাড়ছে। এইসময় বর্ষার আগে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ে। বজ্রপাতও বেশি হয়। কিন্তু ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ কমে যায়। এদিন সেটা হয়েছে। কলকাতায় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০ কিমির মতো। আগের মতো ৭০-৮০ কিমি গতিবেগে ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা কম। বড়ো জোর ৪০ কিমির আশপাশে ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে। এইসময় বজ্রগর্ভ মেঘের অগ্রগতি মন্থর হয়ে যায়। এক জায়গায় মেঘ বেশি সময় থাকে। ফলে বৃষ্টি ও বজ্রপাত বেড়ে যায়। এইসময় বজ্রপাত থেকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। এই দফার ঝড়বৃষ্টি রাত ও ভোরে হওয়ার জন্য বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর নেই।  কিন্তু দিনদুই  আগেই বেলার দিকে বজ্রপাত হওয়ার কারণে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
আবহাওয়া কর্তা বলছেন, বজ্রপাত থেকে বাঁচতে মানুষকে সচেতন হতে হবে। খোলা জায়গা, মাঠের মধ্যে ঝড়বৃষ্টি থেকে বাঁচতে গাছের নীচে আশ্রয় নিলে  মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে। খোলা জায়গায় গাছের উপর বাজ বেশি পড়ে। এই পরিস্থিতিতে কোনো স্থায়ী কাঠামোর নীচে আশ্রয় নেওয়া নিরাপদ। কোনো কিছু না পাওয়া গেলে বজ্রপাতের সময় মাটিতে শুয়ে পড়া গাছের তলায় যাওয়ার তুলনায় নিরাপদ। মত বিশেষজ্ঞদের। এদিকে মৌসুমি বায়ু শুক্রবার কর্ণাটক, তামিলনাড়ুর আরো কিছু অংশে এবং গোয়ার একাধিক অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। দু-তিনদিনের মধ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশ ছাড়াও মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশে বর্ষা প্রবেশ করবে। রাজ্যে এখন যে বৃষ্টি হচ্ছে সেটাকে একেবারে প্রাক্‌বর্ষার বৃষ্টি বলছেন না আবহাওয়াবিদরা। পূর্ব উত্তরপ্রদেশ ও হিমালয় লাগোয়া উত্তরবঙ্গে দুটি ঘূর্ণাবর্ত আছে। এর জেরে বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প প্রবেশ করে বিভিন্ন জায়গায় বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হচ্ছে। বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশে গরম থাকার জন্য ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়ে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টির আরো অনুকূল পরিস্থিতি আছে। জানিয়েছেন আবহাওয়য়বাবিদরা। তবে তাপমাত্রা কমলেও, বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকার ফলে ভ্যাপসা গরম রয়েছে। এদিন কলকাতায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অনেকটা কমে যথাক্রমে ৩২.১ এবং ২৩.২ ডিগ্রি হয়। এটা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ডিগ্রি কম হলেও অস্বস্তিকর গরম ছিল। কারণ সর্বনিম্ন আপেক্ষিক আদ্রর্তা ছিল ৬৫ শতাংশ। সর্বোচ্চ ছিল ৯৮ শতাংশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ