নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে কিংবা পোস্ট ডিলিট করিয়ে আদতে কিছুই করতে পারবে না মোদি সরকার। কেন্দ্র বিরোধী প্রশ্ন উঠতেই থাকবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, তা কোনোভাবেই ডিলিট করে দিতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশ্ন উঠবে। সরকারকে তার জবাবও দিতে হবে। বুধবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তোপ দেগে একথা বলেছেন অভিজিৎ দিপকে। একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, মোদি এখন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নিয়ে যা করছেন, তা যদি পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং করতেন, তাহলে কী হতো? নরেন্দ্র মোদি কি একবারও ভেবে দেখেছেন? দিনকয়েক ধরেই ককরোচ জনতা পার্টি তথা জেন জি অভিযোগ করছে, কোনো কারণ ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে একের পর এক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে কেন্দ্রের কোনো সিদ্ধান্ত বিরোধী পোস্ট হলেই তা ডিলিট করে দেওয়া হচ্ছে। এব্যাপারে ইতিমধ্যেই শোরগোল চরমে উঠেছে। সিজেপি প্রধান সাফ জানিয়েছেন, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার জন্য ‘সেন্সরশিপ’ চালাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলনের ঝাঁজ ক্রমশই বাড়ছে। জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান অভিযোগই হল, এসআইআরে কারচুরি করে ভোট চুরিতে সরাসরি মদত দিয়েছেন তিনি। এসংক্রান্ত বিষয়ে অন্য নির্বাচন কমিশনারদের আপত্তিকে জ্ঞানেশ কুমার গ্রাহ্যই করেননি। জেন জি’র আন্দোলন যেমন চলছে। তেমনই মোদি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটও আলাদা করে বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
বুধবারই আনুষ্ঠানিকভাবে ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ১ নভেম্বর, রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিক্ষোভ সমাবেশকে তারা পূর্ণ সমর্থন করছে। এক্স হ্যান্ডলে দিপকে লিখেছেন, জ্ঞানু মাস্ট গো। অর্থাৎ, একটি বিষয় পরিষ্কার, জ্ঞানেশ ইস্যুতে ক্রমেই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাচ্ছে পদ্মশিবিরের। এহেন পরিস্থিতিতে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে বিরোধীদের পালটা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিজেপি। সেইমতোই বুধবার লালকেল্লা থেকে চাঁদনি চক পর্যন্ত মিছিল করেছে পদ্মপার্টি। এই ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। মিছিলে অংশ নিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হর্ষ মলহোত্রারা। নীতিন বলেন, ‘রাহুল গান্ধী সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন। তিনি হাতে সংবিধান নিয়ে ঘুরছেন। অথচ নিজেই অসাংবিধানিক কাজ করছেন।’ তবে বিজেপির এদিনের কর্মসূচির বিরোধিতা করেছে সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ী সমিতি। অর্থাৎ, যারা ‘ইন্ডিয়া’ জোটের রামলীলা ময়দানে রবিবারের সমাবেশেরও বিরোধিতা করেছে।



