Bartaman Logo
৯ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

বর্ধিত হারে প্রিমিয়াম নিয়েও পিএফ গ্রাহককে সাড়ে ১০ লক্ষের জীবন বিমার সুবিধা দিতে নারাজ কেন্দ্র

পিএফ গ্রাহকদের জন্য গতমাসেই সুখবর এনেছে কেন্দ্র। পিএফের সুবিধার আওতায় আসার ক্ষেত্রে বেতনের ঊর্ধ্বসীমা ১৫ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা হয়েছে।

বর্ধিত হারে প্রিমিয়াম নিয়েও পিএফ গ্রাহককে সাড়ে  ১০ লক্ষের জীবন বিমার সুবিধা দিতে নারাজ কেন্দ্র
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: পিএফ গ্রাহকদের জন্য গতমাসেই সুখবর এনেছে কেন্দ্র। পিএফের সুবিধার আওতায় আসার ক্ষেত্রে বেতনের ঊর্ধ্বসীমা ১৫ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা হয়েছে। এর ফলে যেমন বহু কর্মী নতুন করে পিএফের আওতায় আসবেন, তেমনই বর্তমান কর্মীদের পিএফ ফান্ড এবং পেনশন ফান্ডে বেশি অঙ্কের টাকা জমা পড়বে। এতে অবসরকালীন সুবিধা মিলবে। তবে এখানে একটি বিষয় বেমালুম চেপে গিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। পিএফের আওতায় দেশের যে আট কোটি গ্রাহক জীবনবিমার সুবিধা পান, তাঁদের বঞ্চিত করছে সরকার। বেতনের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধির ফলে জীবনবিমার অঙ্কও বেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেই সুবিধা দিতে রাজি নয় কেন্দ্র।

Advertisement

পিএফের আওতায় এককালীন থোক টাকা ও পেনশনের পাশাপাশি বিমার সুবিধা পান গ্রাহক, যার নাম এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিঙ্কড ইনশিয়োরেন্স। চাকরিদাতা সংস্থা চাকরি থাকাকালীন কোনো কর্মী যদি মারা যান, তাহলে তাঁর পরিবার সর্বোচ্চ ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমার ক্ষতিপূরণ পায়। সর্বনিম্ন অঙ্ক ৫০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ৭ লক্ষ টাকা দেওয়া হয় একটি ফরমুলা মেনে। কী সেই ফরমুলা? ধরে নেওয়া হয়, কোনো ব্যক্তির কর্মজীবনে কাজের গড় মেয়াদ ৩৫ বছর। যেহেতু এতদিন পিএফের সুবিধার ক্ষেত্রে বেতনের ঊর্ধ্বসীমা ছিল ১৫ হাজার টাকা, তাই ১৫ হাজারকে ৩৫ দিয়ে গুণ করা হত। গুণফল ৫ লক্ষ ২৫ হাজার। এর সঙ্গে যোগ করা হত পিএফ অ্যাকাউন্টে ব্যালান্স বাবদ পড়ে থাকা থোক টাকার ৫০ শতাংশ। কিন্তু এক্ষেত্রে ঊর্ধ্বসীমা ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, ব্যালান্স বাবদ থোক টাকার ৫০ শতাংশ যদি ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার বেশি হয়, তাহলে ১.৭৫ লক্ষ টাকাই যোগ হবে। এভাবে ৫.২৫ লক্ষের সঙ্গে ১.৭৫ লক্ষ টাকা যোগ করে সর্বোচ্চ ৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের হিসাব কষা হয়। বর্তমানে সর্বোচ্চ বেতন সীমা ২৫ হাজার টাকা হওয়ায়, এই ফরমুলা মেনেই বিমার অঙ্ক ১০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হওয়া উচিত। (অঙ্কটি হল ২৫,০০০×৩৫+১,৭৫,০০০ =১০,৫০,০০০)। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বেতনের ঊর্ধ্বসীমা ২৫ হাজার টাকা করা হলেও সরকার বিমার টাকা বদ্ধির কথা এখনো ঘোষণা করেনি। মজার বিষয়, এই হিসাবটি সামনে এনেছে খোদ শ্রমমন্ত্রকই। বেতনের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধিতে হিসাব ও নিয়মের কী কী পরিবর্তন আসতে চলেছে, তার একটি প্রশ্নোত্তর (এফএকিউ) প্রকাশ করেছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (ইপিএফও)। সেখানেই তারা জানিয়েছে, ফরমুলা অনুযায়ী বিমার অঙ্ক সর্বোচ্চ ১০.৫ লক্ষ হওয়া উচিত। কিন্তু সরকার এখনো এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। পাশাপাশি তারা জানিয়েছে, ইপিএফওর হাতে বিমা তহবিল বাবদ যে টাকা পড়ে আছে, তার ‘অ্যাকচুরিয়াল’ হিসাব কষে, তারপর হয়তো সরকার সুবিধাটি ঘোষণা করতে পারে। অ্যাকচুরিয়ালের অর্থ বিমায় প্রাপ্ত প্রিমিয়াম, বিমা মেটানোর ঝুঁকি এবং ভবিষ্যতের মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত হিসাব। প্রসঙ্গত, এই বিমার প্রিমিয়াম কর্মীকে মেটাতে হয় না। বেতনের ০.৫ শতাংশ টাকা মেটায় কর্মদাতা সংস্থা। সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকার বেতন ধরে প্রিমিয়ামের অঙ্ক ছিল এতদিন মাসিক ৭৫ টাকা। আশ্চর্যের বিষয়, সরকার পিএফ গ্রাহকদের বিমার সুবিধা না বাড়ালেও, সর্বোচ্চ ২৫ হাজারের সীমা ধরে প্রিমিয়াম বাবদ ১২৫ টাকা করে জমা নিতে শুরু করে দিয়েছে সরকার! বিমা তহবিলের অবস্থা বাস্তবে কীরকম? ইপিএফওর সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের বার্ষিক রিপোর্টের অ্যাকচুরিয়াল হিসাব অনুযায়ী কেন্দ্রের হাতে বিমা বাবদ উদ্বৃত্ত আছে ৬,৩৮৬ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে যেখানে বিমা তহবিলে প্রায় ৩৪,৫০০ কোটি টাকা ছিল, তা ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বেড়ে ৫১,৩০০ কোটিতে পৌঁছেছে। এই তহবিলে শুধু ওই বছরেই আদায় হয়েছে ৭,২০০ কোটি টাকা। বিমা মেটাতে খরচ হয়েছে ২,০৫০ কোটি টাকা। দপ্তরের কর্তাদের একাংশের আক্ষেপ, এই হিসাবই বলে দিচ্ছে, সরকারের হাতে প্রচুর টাকা উদ্বৃত্ত। তাই অনায়াসে জীবনবিমার সুবিধা বাড়িয়ে ১০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করা যেত। কিন্তু সরকার সেসব না করে বঞ্চনার পথেই হেঁটেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ