প্রায় চার দশক ধরে বরাকরের গরিব মানুষের চিকিৎসা করে চলেছেন অজয় পোদ্দার। এখন তিনিই পূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী। দায়িত্ব নেওয়ার কলকাতা, দিল্লি নিত্য যাতায়াত করতে হচ্ছে তাঁকে। কেন্দ্রের একাধিক মন্ত্রক থেকে বাংলার জন্য বাড়তি অর্থ আনাই তাঁর লক্ষ্য। অজয়বাবুর বাড়তি শক্তি তিনি আরএসএস ঘনিষ্ঠ, প্রাক্তন কর্মী। সেই সূত্রে কেন্দ্রের সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গাদকারির সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত তিনি। ‘বর্তমান’কে একান্ত সাক্ষাৎকারে অজয়বাবু জানালেন বাংলাকে নিয়ে কেন্দ্রের পরিকল্পনার কথা।
প্রশ্ন: বারবার দিল্লি যাওয়ার কারণ কী?
মন্ত্রী: রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য অর্থের প্রয়োজন। বিগত সরকার সব লুট করেছে। কোষাগার শূন্য। বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার জন্য অর্থের প্রয়োজন। এছাড়াও দিল্লি গিয়ে নতুন বহু বিষয় জানতে পারছি। সেখানে গিয়ে বুঝতে পারছি, আমাদের রাজ্য থেকে বাকি রাজ্য কত এগিয়ে গিয়েছে।
পিছিয়ে পড়া বাংলাকে সামনে আনতে কেন্দ্রের কিছু আশ্বাস পেলেন?
মন্ত্রী: বাংলার উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী দিনরাত পরিশ্রম করছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে চাইছেন পিছিয়ে পড়া বাংলাকে সামনে আনতে। দু’জনেরই যৌথ প্রয়াসে একের পর এক সুফল পাচ্ছি। বিভিন্ন মন্ত্রক থেকেই বাড়তি বরাদ্দ মিলছে। একাধিকবার কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।
বাংলার সড়ক পরিকাঠামোর উন্নয়নে কেন্দ্রের কী ভাবনা?
মন্ত্রী: দু’লক্ষ কোটি টাকা ব্যায় করে সাজিয়ে তোলা হবে পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা। কেন্দ্র বাংলার শিল্পের বিকাশ চায়। তার আগে জরুরি রাস্তার উন্নয়ন। সেই কাজই আমরা শুরু করে দিয়েছি।
দু’লক্ষ কোটিতে কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?
মন্ত্রী: ৪০ হাজার কোটি ব্যায় করে কলকাতা ইনার অ্যান্ড আউটার রিং রোড তৈরি হবে। বারানসী-কলকাতা নতুন জাতীয় সড়ক তৈরি হবে।
হুগলি নদীর উপর নতুন সেতু হচ্ছে?
মন্ত্রী: হুগলি নদীর উপর নতুন সেতু তৈরির প্রস্তাব আমি নীতিন গড়করিকে দিয়ে ছিলাম। উনি সেতু না গড়ে গঙ্গার তলা দিয়ে ছ’টি টানেল তৈরির কথা জানিয়েছেন। অর্থাৎ, হুগলি নদীর ছ’টি প্রান্তে ছ’টি টানেল দিয়ে কলকাতাকে নতুন ভাবে যুক্ত করা হবে। সেটা হলে মহানগরীর ভোল বদলে যাবে।
উন্নয়ন কি শুধু কলকাতা কেন্দ্রিক?
মন্ত্রী: একেবারেই তা নয়। শিলিগুড়িতেও রিংরোড তৈরি করা হবে। রাজ্যের সবক’টি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যসড়ক জাতীয় সড়কের রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন নীতিন গড়করি।
দক্ষিণবঙ্গের জন্য কী পরিকল্পনা?
মন্ত্রী: আসানসোলে মূল শহরের উপর মাল্টি লেয়ার ফ্লাইওভার তৈরি হবে সিঙ্গেল পোলের উপর দাঁড়িয়ে। একাধিক প্রজেক্ট নীতিনজি নিজে আমাকে দেখিয়েছেন। সংকীর্ণ জায়গায় ফ্লাইওভার হলে একাধিক লেয়ারের করলে সবচেয়ে উপযোগী। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই আসানসোলে তা গড়া হবে। এছাড়াও বীরভূমের জন্য সুখবর রয়েছে। ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর যে সেতুগুলির জীর্ণ দশা, রাস্তা খারাপ, সেগুলি সংস্কারের জন্য ৩৪০ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রক।
জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসু?
মন্ত্রী: অবশ্যই। আমি তাঁদের জানিয়েছি বাংলা নদী মাতৃক এলাকা হলেও বাম ও তৃণমূলের অপশাসনের জেরে নদীগুলি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তাই নদীগুলির সংস্কার প্রয়োজন। পাশাপাশি জল ধরে রাখার জন্য বড়ো নদীগুলির উপর চেকড্যাম তৈরি করা প্রয়োজন। ওঁরা বলেছেন, লিখিত আকারে পুরো প্রস্তাবটি দিতে।
সাক্ষাৎকার: সুমন তেওয়ারি