বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা:
বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা:
সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার জন্য আজ, শুক্রবার বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কেন্দ্র। এবার রোজগার মেলার ১৭তম পর্ব আয়োজিত হতে চলেছে, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের আওতায় প্রায় ৫১ হাজার চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার কথা। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ থেকে চাকরি পাচ্ছেন ক’জন? সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঠিক হয়েছে, বাংলার মাত্র ১৮৩ জন সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পাবেন।
কোটি কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। সরকারি হোক বা বেসরকারি—সব ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থানের জোয়ার আসবে—এমনই দাবি ছিল তাদের। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির কিছুই যে রক্ষিত হয়নি, তা সরকারের নিজস্ব পরিসংখ্যান থেকেই একাধিকবার প্রমাণিত হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই অবস্থায় নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে অন্য পন্থা নিয়েছে কেন্দ্র। নিঃশব্দে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের পথে হাঁটেনি মোদি সরকার। তারা ঠিক করেছে, যে ক’জন সরকারি চাকরি পাবেন, তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হবে রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়ে। প্রচারে যেন কমতি না থাকে! সেই ‘চাকরি উৎসব’-এরই ১৭তম এপিসোড শুরু হবে আজ। দিল্লিতে মূল অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। একযোগে দেশের ৪০টি জায়গায় হবে ওই অনুষ্ঠান। প্রত্যেকটি জায়গায় সরকার পক্ষের কোনও না কোনও মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা। এ রাজ্যে রোজগার মেলার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে শিয়ালদহের কাছে বি সি রায় অডিটোরিয়ামে। জাহাজমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর উপস্থিত থাকবেন সেখানে। শুধুমাত্র সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক বা দপ্তর নয়, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় চাকরির নিয়োগপত্রও তুলে দেওয়া হবে এখান থেকে। অফিসার ও কর্মী পদমর্যাদার চাকরির জন্য এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
দেশে ৫১ হাজার চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও এ রাজ্য থেকে নিয়োগপ্রাপ্তের সংখ্যা ২০০ ছাড়াবে না বলেই খবর। যাঁরা চাকরি পাবেন, তাঁদের একটা বড় অংশ গ্রামীণ ডাকসেবক হিসেবে নিযুক্ত হবেন। কেন পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির অবস্থা এত খারাপ? এর কোনও সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে এক্ষেত্রেও বাংলাকে বঞ্চনার তত্ত্ব সামনে আনছেন অনেকে। তাঁদের কথায়, ‘এর আগে যতবার এই রোজগার মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বড় কোনও প্রাপ্তি ঘটেনি। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।’ এক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্তার কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা বড় করার জন্য আমরা বিস্তর চেষ্টা চালিয়েছি গত কয়েকদিন। কিন্তু কিছুতেই তা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে সেই সংখ্যা ছিল ১২০। এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সংখ্যাটা ১৮৩-তে আটকে গিয়েছে। মোট কথা, ২০০ জনও চাকরি পাবেন না এবারের মেলা থেকে।’