নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ঘুরপথে ভরতুকিহীন ছোটো গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। ডিলারদের ক্যাম্প করে তা বিক্রির জন্য বলা হচ্ছে। প্রতি মাসে ভরতুকিহীন ছোটো সিলিন্ডারের দাম ওঠানামা করবে। এমাসে এধরনের সিলিন্ডারের দাম ১৭১০ টাকা। সেখানে ১৪ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৯৭০ টাকা। সরবরাহ কম, এই অজুহাতে গৃহস্থের বাড়িতে ব্যবহার হওয়া ১৪ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংযোগ দেওয়া বন্ধ রেখেছে সংস্থাগুলি। অথচ দেদার ১০কেজি গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। ছোটো সিলিন্ডার বিক্রির জন্য ডিলারদের প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করে তারা সিলিন্ডার বিক্রি করছে। ১০ কেজি গ্যাসের সংযোগ নিতে জনতাকে দিতে হচ্ছে ৪ হাজার ৮৯৬ টাকা। ১৪ কেজি গ্যাসের সংযোগ নিতে ওভেনবাদ দিয়ে গ্রাহকদের দিতে হত প্রায় ৩ হাজার ৯৭৮ টাকা। ছোটো সিলিন্ডারের সংযোগ পাওয়ার জন্য গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। যে কোনো একটি নথি জমা করলেই সরবরাহকারী সংস্থার কর্মীরা বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন।
গ্রাহকরা বলছেন, গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট থাকলে এভাবে ক্যাম্প করে সংস্থাগুলি বিক্রি করতে পারত না। অথচ ১৪ কেজি গ্যাসের সংযোগ নেওয়ার জন্য কেউ অফিসে গেলে তাঁকে বিভিন্ন অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এধরনের সংযোগে লাভ তুলনামূলক ভাবে কম। কিন্তু, ছোটো সিলিন্ডার বিক্রিতে ভালই লাভ থাকে। এক আধিকারিক বলেন, কারও নামে ১৪ কেজি গ্যাসের সংযোগ থাকলেও তিনি ছোটো সিলিন্ডার বাড়িতে আনতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা বদলি হয়ে অন্য জেলায় যান। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় বাড়িতে তাঁদের নামে সংযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে নতুন করে তাঁদের সংযোগ পেতে সমস্যা হত। কিন্তু, ছোটো সিলিন্ডার পেতে তাঁদের সমস্যা হবে না।
বর্ধমানের বাসিন্দা অনুপম ঘোষ বলেন, এমনিতেই গ্যাসের দাম আকাশ ছোঁয়া। আমজনতার পকেট কেটে সংস্থাগুলি ফুলেফেঁপে উঠছে। এখন আবার নতুন পন্থায় তারা জনগণের থেকে টাকা আদায় করছে। ছোটো সিলিন্ডার আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে। অথচ ১৪ কেজির সিলিন্ডারের সংযোগ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
শহরের আর এক বাসিন্দা বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধির জন্য গ্রামের বহু পরিবার আবার উনুনে রান্না করছে। জনতাকে স্বস্তি দিতে গ্যাসের দাম কমানো উচিত। কিন্তু, তা না করে নতুন উৎপাত শুরু করেছে। এরপর হয়তো ধীরে ধীরে সব পরিবারকেই ছোটো সিলিন্ডারের সংযোগ নিতে বাধ্য করা হবে। অনেকেই হিসাব না করে ছোটো সিলিন্ডারের সংযোগ নিয়ে নিচ্ছে। কত টাকা বাড়তি খরচ করছেন তাঁরা বুঝতেই পারছেন না। বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর সহ সব জেলাতেই ডিলাররা ক্যাম্প করছেন। যে কেউ প্রমাণপত্র হিসাবে ভোটার, আধার বা প্যানকার্ড নিয়ে গেলেই সংযোগ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।



