Bartaman Logo
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বন্যা পরিস্থিতির জের, দুর্গাপুজো প্রস্তুতির কাজ থমকে খানাকুলে

দুর্যোগের অভিঘাত! কোথাও ডুবে মণ্ডপের বাঁশ। কোথাও আবার হাঁটুসমান জল দাঁড়িয়ে পুজোর জায়গায়। সেখানে মণ্ডপ বাঁধার বাঁশ পড়েনি এখনও

বন্যা পরিস্থিতির জের, দুর্গাপুজো প্রস্তুতির কাজ থমকে খানাকুলে
  • ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: দুর্যোগের অভিঘাত! কোথাও ডুবে মণ্ডপের বাঁশ। কোথাও আবার হাঁটুসমান জল দাঁড়িয়ে পুজোর জায়গায়। সেখানে মণ্ডপ বাঁধার বাঁশ পড়েনি এখনও। দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি থমকে খানাকুলে। চিন্তায় উদ্যোক্তারা।  ফি বছরই খানাকুলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। জল নামতে নামতে পুজো চলে আসে। এবারও বর্ষায় দু’বার প্লাবিত হয় খানাকুল, গোঘাট সহ আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন এলাকা। অতি বৃষ্টি ও ব্যারেজ থেকে ছাড়া জলে খানাকুল ১ ও ২ ব্লকের বহু নীচু এলাকায় জল দাঁড়িয়ে যায়। বহু স্কুল ভবন ও চত্বর জলমগ্ন। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কখনও জল নামছে। আবার জোয়ারের সময় জল বেড়ে যাচ্ছে। যাতায়াতে দুর্ভোগ বাড়ছে। এদিকে, পুজোকেও আর বেশি দিন বাকি নেই। জলমগ্ন এলাকাগুলিতে পুজো-প্রস্তুতিতে জোর ধাক্কা। দিশাহারা কমিটিগুলি। 

Advertisement

খানাকুলের মারোখানা, জগৎপুর সহ প্রভৃতি এলাকায় একাধিক দুর্গাপুজো হয়। তালিকায় অনেক প্রাচীন পুজোও রয়েছে। বাকি দুই সপ্তাহের মধ্যে পুজোর আয়োজন কীভাবে সম্পন্ন করবেন, তা নিয়ে আতান্তরে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। কারণ এখনও পুজো মণ্ডপের প্রাথমিক কাজই শুরু করা সম্ভব হয়নি অনেক জায়গায়। যেমন, মারোখানা সর্বজনীন দুর্গা উৎসব সমিতির সভাপতি স্বরূপ পাত্র বলছিলেন, ‘গত বছর প্রায় তিন মাস বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে কাটাতে হয়েছে। এবারও প্রায় এক মাসে দু’বার বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হল। এখনও কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে রাস্তায়। ফলে আমাদের পুজো প্রস্তুতিও থমকে গিয়েছে।’ হানুয়া সুন্দরপুর ফুটবল এন্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের পক্ষে ফটিক সাহু বলেন, ‘দুর্গাপুজোর প্যান্ডেল তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু তারমধ্যেই আচমকা বন্যার জল ঢুকে পড়েছে। প্যান্ডেলের বাঁশ জলে ডুবে যায়। আপাতত কোনও কাজ করতে পারছি না। জলের জন্য স্টেজও তৈরি করা যায়নি। শিল্পীদের অনুরোধ করা হয়েছে, জল নামলে দ্রুত মণ্ডপ বাঁধার কাজ শেষ করা হবে।’ জগৎপুর তরুণ সংঘের পুজো কমিটির সম্পাদক অশোক কুমার সামন্ত বলছেন, ‘আমাদের এবার ৬৯তম দুর্গাপুজো। ভালোবাবেই পুজোর আয়োজন করা হয়। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত প্যান্ডেল তৈরি সম্ভব হয়নি। গ্রাউন্ডে জল জমে। প্যান্ডেলের বাঁশই ফেলা যায়নি এখনও। তবে, পুজোর অনুমতি নেওয়ার কাজগুলি সম্পন্ন হয়েছে।’ খানাকুলে এমন আরও একাধিক পুজো মণ্ডপে জল ঢুকে গিয়েছে। ফলে বাঁশ বাঁধার পর আর কোনো কাজই সেভাবে এগোয়নি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, খানাকুল ২ ব্লকে চারটি পঞ্চায়েত এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে ত্রাণশিবিরে সরাতে হয়নি। যদি প্রয়োজন পড়ে তা হলে শিবির হবে। প্রশাসনের দুই আধিকারিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় যান। মঙ্গলবার গোঘাট ১ ব্লকের পেঁচেরা এলাকায় পরিদর্শনে যান স্থানীয় বিধায়ক প্রশান্ত দিগার। সেখানে তিনি ত্রিপল ও শুকনো খাবার বিলি করেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ