ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: ভোটের ময়দানে সকাল থেকে সন্ধ্যা খাটছেন কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের খাওয়াদাওয়ার জন্য হেঁশেল চালু করলেন জলপাইগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাস। বারোপেটিয়ায় নিজের বাড়িতে ওই হেঁশেলে সকাল থেকে বিশাল কড়াইয়ে শুরু হয়ে যাচ্ছে রান্না। চেয়ার-টেবিল পেতে চলছে ভোজ। রোজ প্রায় হাজার খানেক মানুষের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। সপ্তাহের প্রতিদিন আলাদা মেনু ঠিক করা হয়েছে। তাতে দু’দিন নিরামিষ। বাকি দিনগুলিতে মাছ, মাংস, ডিম সবই থাকছে। রান্নার গ্যাসের সংকট তো কী হয়েছে! একাধিক কাঠের উনুনে চলছে রান্না। দু’জন রাঁধুনি। তাঁদের সঙ্গে সহকারী আরো চারজন। এক ব্যাচ খাওয়া সেরে উঠছে তো মুহূর্তেই বসে যাচ্ছে আরএক দল।
প্রার্থী কৃষ্ণ দাস অবশ্য বলছেন, আগে থেকেই আমার বাড়িতে ওই হেঁশেল চলছে। দূরদুরান্ত থেকে বহু মানুষ রোজই আমার কাছে আসেন। কথা বলে ফিরতে ফিরতে অনেকেরই দুপুর গড়িয়ে যায়। কেউ যাতে খালিমুখে ফিরে না যান, সেকারণে তাঁদের জন্য রান্না-খাওয়ার ব্যবস্থা করি। মানুষকে দু’মুঠো ডাল-ভাত খাওয়াতে পেরে আনন্দ হয় আমার। এটা ঠিক, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর বাড়িতে কর্মীদের ভিড় অনেক বেড়েছে। রোজ হাজারের উপর মানুষজন খাওয়াদাওয়া করছেন। আমি বলে দিয়েছি, কেউ যেন না খেয়ে ফিরে না যান। যাঁরা দলের জন্য প্রাণপাত করেন, সেই কর্মীদের কিংবা সাধারণ মানুষকে দু’মুঠো খাওয়াতে পেরে আমি গর্বিত।
তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে দলের কর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্য হেঁশেল চালু নিয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে নারাজ জলপাইগুড়ি আসনের বিজেপি প্রার্থী অনন্তদেব অধিকারী। তিনি বলেন, এসব নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। তিনি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর সঙ্গে জনগণ থাকলে তিনি জিতবেন। মানুষ আমার সঙ্গে থাকলে আমি জিতব।
বৃহস্পতিবার দলের প্রার্থী কৃষ্ণ দাসের বাড়িতে এসেছিলেন খড়িয়া পঞ্চায়েতের শোভাবাড়ির বাসিন্দা রেবা দে। বললেন, প্রার্থীর বাড়িতে মিটিং ছিল। আমরা ২৩ জন এসেছি। দুপুর হয়ে যাওয়ায় না খেয়ে ফিরতে দিলেন না প্রার্থী। বৃহস্পতিবার হওয়ায় এদিন নিরামিষ মেনু ছিল। মুগের ডাল, পাপড় আর সয়াবিনের তরকারি দিয়ে তৃপ্তি করে ভাত খেলাম। খড়িয়ার কালীবাড়ি এলাকার তৃণমূল কর্মী লাকি রায়, দেবনগরের অনামিকা সরকার বলেন, আমরা দলের সাধারণ কর্মী। কিন্তু প্রার্থীর বাড়িতে এসে যে আপ্যায়ণ পেলাম, তাতে অভিভূত। দুপুরে প্রার্থী না খাইয়ে আমাদের ছাড়েননি।
কৃষ্ণ দাসের বাড়িতে হেঁশেলের রাঁধুনি হারাধন সরকার ও তাপ্পি রায় বলেন, সকাল দশটা থেকেই রান্না শুরু হয়ে যাচ্ছে। দুপুরের খাওয়াদাওয়া শেষ হতে বিকেল তিনটে বেজে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে আবার রাতের জন্য রান্না শুরু করছি। দু’বেলা মিলিয়ে হাজারের বেশি মানুষ রোজ খাওয়াদাওয়া করছেন। নিজস্ব চিত্র