Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ছাড়পত্র দিল মন্ত্রিসভা, এবার মাছ চাষের জন্য সরকারি জলাভূমির ‘ই-অকশন’ করবে রাজ্য

পাঁচ একরের বেশি আয়তনের খাস জলাভূমিতে মাছ চাষের জন্য এবার ই-অকশনের সুযোগ দিচ্ছে রাজ্য।

ছাড়পত্র দিল মন্ত্রিসভা, এবার মাছ চাষের জন্য সরকারি জলাভূমির ‘ই-অকশন’ করবে রাজ্য
  • ১৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাঁচ একরের বেশি আয়তনের খাস জলাভূমিতে মাছ চাষের জন্য এবার ই-অকশনের সুযোগ দিচ্ছে রাজ্য। অর্থাৎ, আগের রীতি অনুযায়ী টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বানের পাশাপাশি অনলাইনে নিলামের ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে রাজ্যে। 

Advertisement

পাঁচ একরের বেশি আয়তনের সরকারি জলাভূমি সম্পর্কিত ১৯৯১ সালের ‘পশ্চিমবঙ্গ ভূমি ও ভূমি সংস্কার ম্যানুয়াল’-এর সংশোধনীকে ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে মাছ চাষে ব্যাপক উন্নতি নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এই বড় জলাশয়গুলিকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য একাধিক মন্ত্রীকে নিয়ে একটি ‘কমিটি অব মিনিস্টার্স’’ গড়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সেই কমিটি রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টের রিপোর্টের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই সংশোধনীগুলি আনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। 
পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ একরের চেয়ে কম আয়তনের যেসব জলাভূমিতে এখন মাছ চাষ হয়, সেগুলি দশকের পর দশক ধরে পঞ্চায়েত দপ্তর বা ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার অধীনে রয়েছে। পাঁচ একরের চেয়ে বড় জলাশয়গুলির নিয়ন্ত্রণ মূলত ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের হাতে রয়েছে। স্বভাবতই এই সংশোধনী কার্যকর হবে শুধুমাত্র পাঁচ একরের চেয়ে বড় জলাভূমির ক্ষেত্রে। এই জলাশয়গুলিতে মাছ চাষের জন্য দরপত্র ডাকার দায়িত্ব থাকে মূলত জেলাশাসকের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটির উপর। এতদিন এই কমিটিতে জেলাশাসক, ভূমি দপ্তরের আধিকারিক, এসডিও এবং মৎস্য দপ্তরের একজন আধিকারিক থাকতেন। এই সংশোধনী আসার ফলে এবার থেকে ক্ষুদ্র সেচদপ্তরের একজন আধিকারিক থাকবেন এই কমিটিতে। কারণ, অনেক খালেও মাছ চাষ করা হয়। সেই সঙ্গে এবার থেকে অনলাইনে অকশান বা নিলামের ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এর জন্য একটি পৃথক পোর্টাল তৈরি করা হবে। মৎস্য দপ্তরকেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধিও নিশ্চিত বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ আমলারা। 
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, জলাভূমি লিজের অঙ্ক বাৎসরিক এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত হলে তার দরপত্র বা ই-অকশান করতে পারবে জেলাস্তরের কমিটিই। এতদিন তারা লিজের অঙ্ক ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে এই কাজ করতে পারত। এর থেকে বেশি হলে সিদ্ধান্ত নিত রাজ্য। আগে দরপত্র ডাকা হলে প্রথমবার কেবল ফিশারম্যান কোঅপারেটিভ সোসাইটি, ফিস প্রোডাকশন গ্রুপ এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি অংশ নিতে পারত। দ্বিতীয়বার দরপত্র ডাকার প্রয়োজন হলে তবেই মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত কোনও শিল্পোদ্যোগী বা ব্যক্তিগতভাবে কেউ অংশ নিতে পারতেন। এবার থেকে প্রথমবারেই মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত শিল্পোদ্যোগীরা অংশ নিতে পারবেন। তবে এলাকাভিত্তিক ফিশারম্যান কোঅপারেটিভ সোসাইটি, ফিস প্রোডাকশন গ্রুপ এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর স্বার্থ যাতে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য তাদের বিশেষ ছাড় দেবে রাজ্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ