নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বাউরি সমাজের সাংস্কৃতিক রীতিকে অটুট রাখতে ও বাউরিদের উন্নয়নে গড়ে উঠেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ বাউরি কালচারাল বোর্ড’। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বীরভূম— এই পাঁচ জেলা নিয়ে এই বোর্ড গঠন হচ্ছে। এই জেলাগুলিতেই বাউরি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস বেশি। সেই বোর্ডকে ভবন নির্মাণের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা দিয়েছে রাজ্য সরকার। আসানসোলের মরিচকোটার কাছে গড়ে উঠবে ‘বাউরি ভবন’। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে চন্দ্রচূড় শিবমন্দিরের অদূরে হতে চলা এই ভবন নিয়ে উৎসাহ তুঙ্গে। রবিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন রাজ্যের শ্রম ও আইনমন্ত্রীর মলয় ঘটক এবং জেলা সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি। বিশ্বনাথবাবু পশ্চিমবঙ্গ বাউরি কালচারাল বোর্ডের অন্যতম সদস্য। বিশ্বনাথবাবু বলেন, বাবা চন্দ্রচূড় মহাদেবের একজন বড় সাধক ছিলেন মনিন্দ দিয়াশি। তিনি বাউরি সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁর লাগানো ১০৮ বেল গাছ থেকে পাতা নিয়েই পুজো হয়। আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষের বিয়ে হয় সেখানে। সেই পবিত্র স্থানের অদূরেই বাউরি ভবন গড়ে তোলার উদ্যোগ দেওয়া হয়েছে। যাতে সেখানে নানা সামাজিক অনুষ্ঠান করা যায়। মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, আমার বিধানসভা এলাকাতেই প্রথম বাউরি ভবন গড়ে উঠছে। আমি বিধায়ক তহবিল থেকে দশ লক্ষ টাকা আরও দেব। যাতে উন্নত মানের ভবন হয়। দক্ষিণবঙ্গে অন্যতম পুরনো সম্প্রদায় বাউরিরা। তফসিলি জাতির অন্তর্ভূক্ত এই সম্প্রদায়ের ভোট বিজেপি আদায় করেছিল। ভোটের সেই ভাঙন রোধে তৎপর হয় রাজ্যের তৃণমূল সরকার। তারা গড়ে তোলে এই কারচারাল বোর্ড। আগেই রাজ্য সরকার বোর্ডের জন্য ৪৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল। সেখানে অনেকের বাড়ি গড়ে তোলা হয়েছে। এবার হবে ভবন। তবে এখানেই থেমে থাকছে না রাজ্য সরকার। রবিবার আসানসোল উত্তর থানার কন্যাপুরে একটি অনুষ্ঠান ভবনে আসানসোল বাউরি ও তফসিলি সমাজ সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতির ব্যানারে একটি বৈঠক আয়োজন করা হয়।



