অর্ক দে, কলকাতা: বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশক। কলকাতা তখনও ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী। চালু হল ‘গ্র্যান্ড এম্পায়ার থিয়েটার’। পরবর্তীকালে যা রক্সি সিনেমা হল নামে সমধিক পরিচিত হয়ে উঠল। ব্রিটিশ স্থাপত্যশৈলী আর প্রযুক্তির এক অপরূপ মেলবন্ধনের সাক্ষী হল শহর। কিন্তু এরকম উদাহরণ তো শতাব্দীপ্রাচীন কলকাতা শহরে আকছার চোখে পড়ে! এখানে তাহলে নতুন কী? নতুন হল, ওই সময়ে দাঁড়িয়েও এই প্রেক্ষাগৃহের দর্শকরা কার্যত ‘ডলবি সাউন্ড এফেক্ট’ উপভোগ করতেন! আর সেই ব্যবস্থা করতে কাঠের মঞ্চের ঠিক নীচে তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ ধরনের জলাধার। গোটা ব্যবস্থাপনাটি ঠিক কীভাবে কাজ করত, তা এখন যথাযথভাবে বলা শক্ত। এই প্রেক্ষাগৃহ কলকাতা পুরসভার সম্পত্তি। বর্তমানে তারাই রক্সির ব্যাপক সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছে। আর তা করতে গিয়ে সামনে আসে, কাঠের মঞ্চের নীচে এক লক্ষ লিটারেরও বেশি জলধারণ করতে পারার মতো কয়েকটি কুঠুরিতে ভাগ করা এই ঘর। দেখলে মনে হতে পারে ভুলভুলাইয়া!
এখন প্রযুক্তির দৌলতে ‘ডলবি এফেক্ট’ কোনও আশ্চর্য ঘটনা নয়। তাহলে কি এর প্রয়োজন একেবারেই ফুরিয়েছে? অব্যবহৃত হয়েই পড়ে থাকবে ভবনের এই অংশ? পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের সিদ্ধান্ত, স্রেফ জলাধার হিসেবেই ব্যবহার করা হবে এটি। সংস্কার পরবর্তী রক্সিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে জল সরবরাহ হবে এখান থেকেই। এক পুর ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ‘সেই সময় কোনও ডলবি ডিজিটাল সিস্টেম ছিল না। কিন্তু হলের ভিতরে সাউন্ড এফেক্ট আকর্ষণীয় করতে এই জলাধার তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে জল ভর্তি থাকত। বহু বছর অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় স্বভাবতই নানানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলাধার। তাই এটিরও সংস্কার করা হচ্ছে।’
যে জল সরবরাহ ব্যবস্থা এখানে কার্যকর করতে চাইছে পুরসভা, তাতে কোনও ওভারহেড রিজার্ভার বা ছাদে জলের ট্যাঙ্ক থাকছে না। মঞ্চের নীচে জল মজুত থাকবে। সেখান থেকেই পাইপের মাধ্যমে সরাসরি জল সরবরাহ হবে রক্সি ভবনের সর্বত্র।
পুরসভার এক কর্তা জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে নীচে থাকে ওয়াটার স্টোরেজের ব্যবস্থা। পাম্পের সাহায্যে সেই জল ছাদের ট্যাঙ্কে তোলা হয়। তারপর পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় প্রয়োজনমতো। এক্ষেত্রে তেমনটা হচ্ছে না। এখানে গোটা ব্যবস্থাটাই স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল হতে চলেছে। যার পোশাকি নাম ‘হাইড্রো-নিউমেটিক ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম’। এই ব্যবস্থায় কল খুললেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাম্প চালু হয়ে যাবে এবং জল পড়তে শুরু করবে। ডিজিটালি মনিটরিং হবে গোটা সিস্টেমের । অর্থাৎ বলা ভালো, এখানে কল বা ট্যাপই পাম্পের সুইচ হিসেবে কাজ করবে। কল বন্ধ করে দিলে একইভাবে পাম্পও বন্ধ হয়ে যাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। সব মিলিয়ে তিনটি পাম্প লাগানো হবে বলে ঠিক হয়েছে। দু’টি পাম্প নিয়মিত কাজ করবে এবং একটি পাম্প থাকবে বিকল্প হিসেবে।