Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিধানসভা ভিত্তিক তৃণমূলের প্রতিজ্ঞা স্তম্ভে ঢাকা পড়ছে বিজেপির সংকল্পপত্র

আসানসোল-বার্নপুর শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে দামোদর নদ। কিন্তু, দুই পাড়ের জীবনের ছন্দকে দমিয়ে রাখতে পারেনি দামোদর।

বিধানসভা ভিত্তিক তৃণমূলের প্রতিজ্ঞা স্তম্ভে ঢাকা পড়ছে বিজেপির সংকল্পপত্র
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: আসানসোল-বার্নপুর শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে দামোদর নদ। কিন্তু, দুই পাড়ের জীবনের ছন্দকে দমিয়ে রাখতে পারেনি দামোদর। বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার নদী তীরবর্তী গ্রামগুলির হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন সব্জি বিক্রি করতে শিল্পাঞ্চলে আসেন। এখানকারও বহু মানুষ ওপাড়ে যান। মাধ্যম একমাত্র জলযান। ঝুঁকির যাতায়াত। বিশেষ করে দামোদরে জল বাড়লে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। টান পড়ে পেটে। 

Advertisement

স্বাভাবিকভাবেই দুই পাড়ের বাসিন্দার দীর্ঘদিনের দাবি, দামোদরের উপর একটি সেতু হোক। এ নিয়ে আন্দোলনও হচ্ছে। সেই দাবিকে এবার ‘প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ’-এ ঠাঁই দিল আসানসোল দক্ষিণের তৃণমূল। স্তম্ভের প্রথম পয়েন্টই হল রাজ্যে চতুর্থবারের জন্য তৃণমূল সরকার গড়লে এখানে সেতু নির্মাণ করা হবে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তা বাস্তবায়িত হবে।  
তৃণমূলের এই ‘প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ’ আসলে কী? দলের নির্বাচনি কার্যালয়ের সামনে একটি স্থায়ী স্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কী কী কাজ করবে, তা স্থায়ী ভাবে লেখা থাকছে। তাকেই শাসক দল নাম দিয়েছে ‘প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ’। আসানসোল দক্ষিণের মানুষের কাছে তাঁদের প্রথম প্রতিশ্রুতিই সেতু নির্মাণ। এই ঘটনায় সাড়া পড়েছে এলাকায়। দামোদর বিহারী নাথ সেতু বন্ধন কমিটির নেতা চন্দন মিশ্র বলেন, ‘এতে আমরা খুশি। আমাদের দাবি তৃণমূল অবশেষে মেনে নিল।’ 
জামুড়িয়ার পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে অজয় নদ। নদের ও পাড়ে বীরভূম। জামুড়িয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, দরবারডাঙায় একটি স্থায়ী সেতুর। তৃণমূলের প্রতিজ্ঞা স্তম্ভের প্রথম প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে সেতু নির্মাণের। এতেও মন জয় হয়েছে সাধারণ মানুষের। একইভাবে দুর্গাপুর পশ্চিমের মানুষের কাছে তৃণমূলের প্রথম প্রতিজ্ঞা স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ। খোদ মুখ্যমন্ত্রী এসেও সে কথা বলে গিয়েছেন। বারাবনির মানুষের কাছে তৃণমূল প্রতিজ্ঞা স্তম্ভে লিখেছে পানীয় জলের সমস্যার সমাধান। এভাবেই প্রতি বিধানসভার স্থানীয় সমস্যাগুলি পর্যালোচনা করে যেগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেগুলি দ্রুত পূরণের প্রতিজ্ঞা নিয়েছে তৃণমূল। প্রতিজ্ঞা স্তম্ভে খোদাই করা প্রতিশ্রুতি গুলি আবার লিফলেটের মাধ্যমে মানুষের বাড়িতেও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তাতেই ভোটারদের মনে আশা জাগছে। জানা গিয়েছে, আমাদের পাড়া আমাদের সমাধানে যেভাবে সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনে তা সমাধানের রাস্তা করা হয়েছে, এক্ষেত্রেও ঠিক তাই। প্রতিটি বিধানসভা এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের চাহিদা জেনে তৈরি হয়েছে প্রতিজ্ঞা স্তম্ভের প্রতিজ্ঞাসূচি। যা বিজেপির সংকল্পপত্রকে বলে বলে দশ গোল খাওয়াচ্ছে বলে অভিমত রাজনৈতিক  মহলের। কেননা, বিজেপির যা বলে, তা যে  করে না, সেটা মোদির সরকারের জমানায় বুঝে গিয়েছে আম জনতা। 
বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব হাজরা বলেন, ‘তৃণমূলকে মানুষ ১৫ বছর সময় দিয়েছে। কোনো প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করতে পারেনি। ওদের মানুষ আর বিশ্বাস করে না।’ তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, ‘তৃণমূলকে অনুসরণ করা বিজেপির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। নকল করে মানুষের মন জয় করা যায় না।’-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ