শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: দল আর প্রশাসন আলাদা থাকবে। এটাই বিজেপির ঘোষিত নীতি। ক্ষমতায় এসে সেই নীতি কার্যকর করার পথে হাঁটছে তারা। তাদের মতে, প্রশাসনের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের নির্দিষ্ট কাঠামো থাকবে। তার জন্য জেলার পর এবার প্রতিটি বিধানসভায় কোর কমিটি গড়ার সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি। দ্রুত এনিয়ে পদক্ষেপ করার ইঙ্গিত মিলেছে। তৃণমূল আমলে দল ও প্রশাসনের পৃথক কোনো অস্তিত্ব ছিল না বলে বারবার সরব হত বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ ছিল, প্রশাসনের সঙ্গে শাসক দল তৃণমূলের দূরত্ব কার্যত মুছে গিয়েছে। প্রশাসন চলছে শাসক দলের নেতাদের নির্দেশেই। সেই রাজনৈতিক অবস্থান থেকেই এবার নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে নতুন সরকার। প্রশাসনের সঙ্গে দলের যোগাযোগকে ব্যক্তিনির্ভর না রেখে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে বেঁধে ফেলতেই এই উদ্যোগ বলে দলীয় সূত্রে দাবি। জানা গিয়েছে, প্রতিটি বিধানসভায় ছয় থেকে সাতজনের একটি কোর কমিটি গড়া হবে। সেখানে থাকবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়ক, জেলা সংগঠনের প্রতিনিধি এবং কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদাধিকারী। এলাকার প্রশাসনিক বিষয়, আইনশৃঙ্খলা, কিংবা জনস্বার্থের ইস্যুতে প্রশাসনের সঙ্গে দলের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের দায়িত্ব থাকবে কমিটির হাতেই। থানা, মহকুমা শাসকের দপ্তর বা জেলা প্রশাসনের কাছে দলের বক্তব্য পৌঁছবে নির্দিষ্ট সাংগঠনিক পদ্ধতি মেনেই। কেন এই সিদ্ধান্ত? দলের একটি সূত্রের দাবি, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় একাধিক নেতা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলেছেন বলে বিজেপির অন্দরেই কথা উঠেছে। কোথাও পদমর্যাদার বলে প্রশাসনের উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, কোথাও আবার একই বিষয় নিয়ে একাধিক নেতার পৃথক বার্তা। ফলে প্রশাসনের কাছেও ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে যে কার কথা শুনবে তারা? সেই বিভ্রান্তি কাটাতেই কোর কমিটির উপর ভরসা রাখতে চাইছে রাজ্য নেতৃত্ব। দলের একাংশের মতে, বিরোধী অবস্থায় আন্দোলনের রাজনীতি আর সরকারে থেকে প্রশাসন চালানোর রাজনীতি এক নয়। ব্যক্তিনির্ভর যোগাযোগের বদলে সংগঠন-নির্ভর পালটা ব্যবস্থা সামনে আনতে চাইছে নেতৃত্ব। এনিয়ে বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি রাজীব পোদ্দার বলেন, ‘বিজেপির আদর্শই হল দল ও প্রশাসনের ভূমিকা আলাদা রাখা। তাই বিধানসভাভিত্তিক কোর কমিটি তৈরি করার পথে হাঁটছে দল। বিধায়ক, জেলা সংগঠনের প্রতিনিধি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নিয়েই এই কমিটি হবে। এতে প্রশাসনের কাছেও স্পষ্ট থাকবে, দলের পক্ষ থেকে কারা আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলবেন।’



