১৯৮৫’র আইএফএ শিল্ড সেমি-ফাইনাল। ইস্ট বেঙ্গলের প্রতিপক্ষ দুর্ধর্ষ পেনারল। উরুগুয়ের দলটি চোখ ধাঁধানো ফুটবলে দর্শকদের চমকে দিয়েছিল। অন্যদিকে টেক্কা দিতে তৈরি ইস্ট বেঙ্গল। চিফ কোচ প্রদীপদার কাঁধে জাতীয় দলের দায়িত্ব। তাই শিল্ডে দলের ব্যাটন ছিল সহকারী কোচ শ্যাম থাপার হাতে। সেদিন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গলের লড়াই এখনও সমর্থকদের মনে টাটকা। আমার ফুটবল কেরিয়ারে সেরা ম্যাচের তালিকায় উপরের দিকেই থাকবে ৪০ বছর আগের শিল্ড সেমি-ফাইনাল।
যুবভারতীতে সেই ম্যাচে শুরুতে গোল করে এগিয়ে যায় পেনারল। দ্বিতীয়ার্ধে প্রায় ৪০ গজের দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরায় এই অধম। মনে আছে, শট নেওয়ার পর ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাই। সম্বিৎ ফেরে ‘গোওওল’ আওয়াজে। ততক্ষণে সতীর্থদের ভালোবাসার অত্যাচারে আমি বন্দি। পেনারলের গোলকিপার হতচকিত। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বল আছড়ে পড়েছিল জালে। বাকি সময়ে আর গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাই-ব্রেকারে। শেষরক্ষা না হলেও সেদিনের লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছিলেন মাঠে উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থক। তবে ফাইনালে না ওঠার আক্ষেপ যাওয়ার নয়। ভারতীয় ফুটবলে ইস্ট বেঙ্গল সেবার অন্যতম সেরা দল। অধিনায়ক বলাই মুখার্জি। স্কোয়াডে ভাস্কর গাঙ্গুলি, মনোরঞ্জন, তরুণ, সুদীপ, বিকাশ, বিশ্বজিৎ, কৃশানু, জামশেদের মতো ফুটবলার। মোহন বাগানকে হারিয়ে ফেড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয় ইস্ট বেঙ্গল। এমনকী কলম্বোতে এএফসি ক্লাব কাপেও সেরা লাল-হলুদ ব্রিগেড। টিম বন্ডিং ছিল দেখার মতো। অনুশীলনের পর ড্রেসিং-রুমে মিটিং করতেন সিনিয়ররা। ভুলত্রুটি বিশ্লষণের পালা চলতো। আসলে ক্লাব, জার্সির প্রতি আবেগ ছিল দেখার মতো। ম্যাচ হারলে তো বটেই, ড্র হলে পর্যন্ত সবার মন খারাপ। পিন পড়লেও শব্দ শোনা যাবে। যে কোনও দলের সাফল্যের নেপথ্যে এই একাত্মবোধ বড় ফ্যাক্টর। পরবর্তীতে শিবির বদলে মোহন বাগানে সই করি। ১৯৮৭ সালে পাঞ্জাব পুলিশকে হারিয়ে শিল্ড ঘরে তোলে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। বাবলুদা, শিশির, সত্যদের ডেডিকেশন ভোলার নয়।
বেশ কয়েক বছর পর এবার শিল্ডে সিনিয়র দল খেলাচ্ছে দুই প্রধান। ফাইনালে ডার্বির সম্ভাবনা উজ্জ্বল। উৎসবের মরশুমে জমজমাট বড় ম্যাচের প্রতীক্ষায় সবাই।