Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নয়া রূপে সাজছে আমডাঙার বর্তির বিল

নতুন করে সেজে উঠছে আমডাঙার বর্তির বিল। জল, পাখি আর সবুজ নিয়ে গড়ে উঠছে অ্যাকোয়াটিক বায়ো-ডাইভারসিটি পার্ক।

নয়া রূপে সাজছে আমডাঙার বর্তির বিল
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: নতুন করে সেজে উঠছে আমডাঙার বর্তির বিল। জল, পাখি আর সবুজ নিয়ে গড়ে উঠছে অ্যাকোয়াটিক বায়ো-ডাইভারসিটি পার্ক। হারানো জীব-বৈচিত্র্যকে রক্ষা করা ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের মাধ্যমে এলাকার মানুষকে উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করাই এর লক্ষ্য।

Advertisement

আমডাঙা ব্লকে অবস্থিত বর্তির বিল। বছরের পর বছর ধরে এই বিলই ছিল পরিযায়ী পাখিদের প্রিয় ঠিকানা। শীত নামলেই ভিন দেশের অতিথি পাখিরা এসে ভিড় জমাত এই বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে। এবারও আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখি। কিন্তু দূষণ, জমে থাকা পলি, আশপাশে নির্মাণকাজ আর কৃষিজমিতে রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে সেই সৌন্দর্য্য মলিন হয়ে গিয়েছিল। বিলের জল হয়ে উঠেছিল ঘোলাটে। কমতে শুরু করে পাখি। হারিয়ে যাচ্ছিল তাদের নিরাপদ আশ্রয়। এই অবস্থায় নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে বর্তির বিলকে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকশো একর বিস্তৃত এই বিলকে ঘিরেই শুরু হয়েছে পরিবর্তনের কাজ। দূষণ রোধে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। আশপাশের গাছ সংরক্ষণ ও নতুন করে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন। শুধু তাই নয়, বিলের সৌন্দর্য্য ও জীব-বৈচিত্র্য ধরে রাখতে স্থানীয়দের সচেতন করতে শুরু হয়েছে প্রচারাভিযান। প্রকল্পের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে পর্যটনের একাধিক সুবিধা। পাখি দেখার জন্য তৈরি হচ্ছে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার, নৌকাবিহারের ঘাট। পর্যটকদের থাকার জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জোর দেওয়া হচ্ছে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ও নকশায়। প্রশাসনের আশা, এতে যেমন পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে, তেমনই কর্মসংস্থান হবে এলাকাবাসীর।
এ নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, আমরা জেলা ও ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করছি। এর ফলে পরিযায়ী পাখিরা নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে। বর্তির বিলের জন্য ইতিমধ্যেই কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
পেশায় শিক্ষক সমীর কুম্ভকার এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্তির বিলের এই ভাবনা সফল হলে কেবল জলাভূমি সংরক্ষণের উদাহরণই হবে না, বরং স্থায়ী উন্নয়নের প্রশ্নেও বড় পদক্ষেপ হবে। বায়ো-ডাইভারসিটি পার্কের মাধ্যমে আমডাঙা পাবে এক নতুন পরিচয়। তবে, সেই অর্থে এখানে নেই পুলিশি নজরদারি। তাই এখানে বিকেলের পর থেকেই প্রকাশ্যে নেশার আসর বসে বলে অভিযোগ। তাই প্রশাসনের এ বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ