অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: ওড়িশা ও মণিপুর থেকে আনা গাঁজা পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে যেত। এখন গাঁজা পাচারের রুট অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এখন দক্ষিণবঙ্গের মাদক কারবারিদের প্রথম পছন্দ থাইল্যান্ডের হাইড্রোপনিক গাঁজা। থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশের ঢাকা হয়ে চোরাপথে এই মাদক ভারতে ঢুকছে। দাম অনেকটাই বেশি। প্রতি কেজির বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। তদন্তে নেমে এমনই তথ্য হাতে পেয়েছে এরাজ্যের পুলিশ। এসটিএফ, এনসিবি সহ একাধিক তদন্তকারী সংস্থা এই চক্রের উপর নজরদারি চালাচ্ছে। গত এক মাসে নদীয়া সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গোয়েন্দাদের মতে, চক্রের জাল আরও অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। অতীতে দিল্লি, হায়দরাবাদ ও মুম্বইয়ে হাইড্রোপনিক গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের গাঁজা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেনি।
সাধারণ গাঁজার চাষ মাটিতে হলেও হাইড্রোপনিক গাঁজার চাষ হয় মাটিবিহীন পদ্ধতিতে। গাছের শিকড় অক্সিজেন সমৃদ্ধ পুষ্টি-দ্রবণে নিমজ্জিত থাকে। মূলত থাইল্যান্ডে এই গাঁজার চাষ হয়। সাধারণ গাঁজার দাম প্রতি কেজি মাত্র কয়েক হাজার টাকা। সেখানে ‘ওজি উইড’ নামে পরিচিত এই গাঁজার প্রতি কেজির মূল্য প্রায় কোটি টাকা। পুলিশের দাবি, এতদিন ওড়িশা ও মণিপুর থেকে আসা দেশীয় গাঁজা পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে পাচার হত। এখন পরিস্থিতি উলটো। বাংলাদেশ হয়ে ছোটো ছোটো চালানে থাইল্যান্ডের হাইড্রোপনিক গাঁজা পশ্চিমবঙ্গে ঢুকছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এক মাস আগে কৃষ্ণগঞ্জের গেদে এলাকা থেকে ইরফান আহমেদ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ। তার কাছ থেকে দু’কেজি হাইড্রোপনিক গাঁজা উদ্ধার হয়। জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে নিখাত নামে আরও এক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, কামারহাটির বাসিন্দা ইরফানকে থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে সে প্রথমে বাংলাদেশের ঢাকায় আসে। পরে চোরাপথে ভারতে প্রবেশ করে। ধৃতদের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে আনন্দ সিং এবং তার বাবা বীরেন্দ্র সিং ওরফে লম্বু সিংয়ের নাম উঠে আসে। তাদের অবস্থান বরাহনগর ও কামারহাটি এলাকায় শনাক্ত হওয়ার পর নজরদারি শুরু করে পুলিশ।
ইরফান গ্রেপ্তারের পাঁচ দিনের মাথায় উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল থেকে ৭ কেজি হাইড্রোপনিক গাঁজা সহ আনন্দ ধরা পড়ে। কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রেপ্তার হয় বীরেন্দ্রও। বর্তমানে সকলেই পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। গোয়েন্দারা তাদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এর কয়েক দিন পর কলকাতা পুলিশের লালবাজার গোয়েন্দা বিভাগও ৮ কেজি হাইড্রোপনিক গাঁজা সহ আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তের সূত্রে লালবাজারের গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও নদীয়ায় এসেছিলেন। সম্প্রতি তেলঙ্গানা পুলিশের ঈগল ফোর্সের তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ৩০০ ক্যারিয়ারের মাধ্যমে ভারতে হাইড্রোপনিক গাঁজা পাচার করা হয়েছে। এই চক্র পরিচালনায় ৪০৫টি বিমানযাত্রা, বিমান ভ্রমণে এক কোটিরও বেশি টাকা খরচ এবং হাওলা চক্রের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।