নয়াদিল্লি: বৈসরণ উপত্যকা থেকে পর্যটকদের পালানোর কোনও পথ ছিল না। প্রবেশের পথ আটকে ছিল দুই জঙ্গি। আর বেরনোর পথে ছিল একজন। আর সেই তিন জঙ্গিকে সহায়তা করতে বাইরে জঙ্গলে লুকিয়ে ছিল আরও একজন। বেরনোর পথে থাকা জঙ্গিই প্রথম গুলি চালাতে শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে যখন সবাই প্রবেশ পথের দিকে এগিয়ে চলেছেন, তখন গর্জে ওঠে সেখানে থাকা দুই জঙ্গির বন্দুক। নিমেষে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’ বৈসরণ। প্রত্যক্ষদর্শী এবং জঙ্গিদের টুকরো টুকরো বয়ান মিলিয়ে ঘটনাক্রম তৈরি করেছেন গোয়েন্দারা। সেখানেই হামলার ৩০ মিনিট জঙ্গিদের গতিবিধি ধরা পড়েছে।
নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই যে বৈসরণে হামলা চালানো হয়, গোয়েন্দারা তা নিয়ে একপ্রকার নিশ্চিত। তবে অস্ত্রধারী জঙ্গিদের সামনে পড়েও নিজেদের বোধ বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেননি মানুষজন। গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, প্রথমে জঙ্গিরা সকলকে এক জায়গায় জড়ো করে। এরপর পুরুষ ও মহিলাদের আলাদা হতে বলে। সেই নির্দেশ মানেনি কেউই। এরপর হিন্দু ও মুসলিমদের আলাদা হতে বলে তারা। সেই নির্দেশও ব্যর্থ হয়। অগত্যা হিন্দু-মুসলিম আলাদা করতে কলমা পড়ার নির্দেশ দেয় তারা। বৈসরণে জঙ্গি হামলার প্রথম বলি হন নৌসেনার আধিকারিক লেফটেন্যান্ট বিনয় নারওয়াল। গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, প্রাণ বাঁচাতে টি-স্টল এবং ভেলপুরি স্টলের আচ্ছাদনের নীচে অনেকে জমায়েত হয়েছিলেন। সেখানেই সবচেয়ে বেশি পর্যটকের দেহ মিলেছে। এরপর পার্কের বাঁদিকের দেওয়াল টপকে জঙ্গিরা পালিয়ে যায়।
তবে ভিন্ন একটি বয়ানও সামনে এসেছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) আধিকারিকদের জানিয়েছেন, ফুড স্টলের পিছনে দুই জঙ্গি আগে থেকে অপেক্ষা করছিল। দুপুর আড়াইটে নাগাদ স্ন্যাক্স নিতে আসা পর্যটকদের ধর্ম জিজ্ঞাসা করে। পলকেই চারজনকে গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। এরপর সেখান থেকে পালাতে শুরু করে অন্যরা। তখন জিপলাইন থেকে বাকি দুই জঙ্গি গুলি চালাতে শুরু করে। ফলে ঠিক কতজন জঙ্গি সেখানে ছিল, তা নিয়ে ধন্দ সৃষ্টি হয়েছে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ঢাকা পহেলগাঁওয়ে হামলা চালিয়ে কীভাবে নিরাপদে জঙ্গিরা গাঢাকা দিল, সে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। জানা যাচ্ছে অপারেশনের জন্য নিখুঁত প্রস্তুতি সেরেছিল জঙ্গিরা। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পহেলগাঁওয়ের হোটেলগুলি থেকে পর্যটকদের আগমনের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তারা সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি চেয়েছিল। সর্বাধিক পর্যটক থাকবে জানার পর ২০ এপ্রিলকেই হামলার জন্য বেছে নিয়েছিল জঙ্গিরা। তবে বাদ সাধে বৃষ্টি। খারাপ আবহাওয়ার জন্য হামলার পরিকল্পনা তারা দু’দিন পিছিয়ে দেয়। গোয়েন্দারা মনে করছেন, আরও একটা কারণে হামলা দু’দিন পিছিয়ে থাকতে পারে। অনেকেই বৃষ্টির জন্য পহেলগাঁও ভ্রমণ দু’দিন পিছিয়ে দেয়। তাই জঙ্গিরাও হামলার দিনক্ষণ বদল করে। স্থানীয় এক টাট্টু ঘোড়া চালক জানিয়েছেন, ২২ এপ্রিল বৈসরণে স্থানীয় ও পর্যটক মিলিয়ে ৫ হাজার জন উপস্থিত ছিলেন।