Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কাঁকুড়গাছিতে, ‘যেন মিসাইল!’ লাগাতার বিস্ফোরণে চৌচির কাচ, রাস্তায় রাত জাগল পাড়া

‘আচমকা বিস্ফোরণের শব্দ। প্রথমে ভেবেছিলাম গণ্ডগোল হচ্ছে। বোমা পড়ছে হয়ত। বারবার আওয়াজ হচ্ছে শুনে দেখতে গেলাম। দেখি ফ্ল্যাটের পিছনের দিকের অবস্থা ভয়াবহ।

গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কাঁকুড়গাছিতে, ‘যেন মিসাইল!’ লাগাতার বিস্ফোরণে চৌচির কাচ, রাস্তায় রাত জাগল পাড়া
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘আচমকা বিস্ফোরণের শব্দ। প্রথমে ভেবেছিলাম গণ্ডগোল হচ্ছে। বোমা পড়ছে হয়ত। বারবার আওয়াজ হচ্ছে শুনে দেখতে গেলাম। দেখি ফ্ল্যাটের পিছনের দিকের অবস্থা ভয়াবহ। দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। মনে হচ্ছে যুদ্ধ চলছে। মিসাইলের মতো একের পর এক সিলিন্ডার ফেটে এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়ছে,’ বুধবার গভীর রাতের ভয়ানক অভিজ্ঞতা শোনালেন কাঁকুরগাছির বাসিন্দা শুভেন্দু দে। তাঁর বাড়ির পিছন দিকে একটু দূরেই একটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গোটা রাত কার্যত জেগে কাটায় গোটা পাড়া। ভোর হওয়ার পর দেখা যায়, বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারও ঘরের জানলার কাচ ভেঙেছে। কারও দরজা ভেঙে চৌচির। কারও ফ্ল্যাটের দেওয়াল পর্যন্ত ফাটিয়ে দিয়েছে উড়ে আসা সিলিন্ডার। দমকল কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

Advertisement

বুধবার গভীর রাতে আগুন লেগে ভস্মীভূত কাঁকুড়গাছির ঘোষবাগান এলাকার একাধিক দোকান ও গুদাম। পুলিশ জানিয়েছে, ১২৭ নম্বর মানিকতলা মেইন রোডে একটি দোকানে আগুন লেগেছিল। তা ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশে থাকা চারটি দোকান পুড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই জায়গাটি মূলত গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে রাখা ছিল অক্সিজেন সিলিন্ডার। সেখানেই আগুন লাগে। সিলিন্ডারগুলি একের পর এক ফাটতে থাকে। অক্সিজেন ভর্তি থাকায় বিস্ফোরণ তীব্র আকার নেয়।
জানা গিয়েছে, রাত আড়াইটের কিছুক্ষণ পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ছ’টা পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে নেভানোর (কুলিং) কাজ করতে হয় দমকল কর্মীদের। এই ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের কয়েকটি ফ্ল্যাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। ঘটনাস্থলের প্রায় ১৫০ ফুট দূরত্বের মধ্যেই রয়েছে একটি ফ্ল্যাটবাড়ি। সেটির এক বাসিন্দা বলেন, ‘ভয়ে ফ্ল্যাটের বাইরে বেরিয়ে আসি। পাড়ার অন্যান্যরাও রাস্তায় চলে আসেন। ভোরে আগুন নেভার পর ফ্ল্যাটে ঢুকে দেখি জানলার কাচ ভেঙেছে। জানালার শিক বেঁকে গিয়েছে।’ সমর দে নামে আর এক বাসিন্দা বলেন, ‘বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরের দরজা ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছে। সিলিন্ডার উড়ে এসে ফ্ল্যাটের পিছনের দেওয়াল পর্যন্ত দিয়েছে ফাটিয়ে।’ ভোরবেলা ঘটনাস্থলে যান ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু। তিনি বলেন, ‘ওখানে অনেক অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখা ছিল। সেগুলি ফেটেছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।’ কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘যেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখা ছিল, সেটি বেআইনি কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ 
সবমিলিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে বিনিদ্র রজনী কাটাতে হয়েছে কাঁকুড়গাছির ঘোষবাগান এলাকার বাসিন্দাদের। গভীর রাতের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ঘোষবাগানের বাসিন্দা কৌশিক দাশগুপ্ত বলেন, ‘আমরা সবাই প্রায় ভোর পর্যন্ত জেগে ছিলাম।’ অন্যান্য বাসিন্দারা জানান, দমকল কর্মীরা একপ্রকার জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ