নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর ও কলকাতা: ১ জুলাই, মঙ্গলবার ছিল চিকিৎসক দিবস। রাজ্যজুড়ে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের পুষ্পস্তবক, মানপত্র দিয়ে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানানোর পর্ব চলে দিনভর। এই আবহে বারাকপুর সাক্ষী থাকল সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনার! এদিন রাতে ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হামলা, মারধর এবং হাসপাতালে বেলাগাম ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল। বারাকপুরে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া এক বেসরকারি হাসপাতালের এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে বিজেপির নেতা-কর্মীদের। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। সেখানে বিজেপির এক নেতাকে ডাক্তারদের আঙুল তুলে শাসাতে দেখা গিয়েছে। গোটা ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ চিকিৎসক সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তারা দাবি জানিয়েছে, দ্রুত এই ঘটনায় জড়িত বিজেপি নেতা সহ বাকিদের গ্রেপ্তার করা হোক। চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও।
পুলিস ও হাসপাতাল সূত্রের খবর, দীনেশ দাস (৬৫) নামে এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে বারাকপুরের ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণ পরই মৃত্যু হয় তাঁর। তারপরই দলবল নিয়ে সেখানে চলে আসেন বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী। অভিযোগ, তাঁর নেতৃত্বে হাসপাতাল ও চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলা চলে। যদিও কৌস্তভবাবুর পাল্টা দাবি, ‘দলের এক কার্যকর্তার বাবার মৃত্যুর খবর শুনে গিয়েছিলাম। অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়ার জন্য মৃত্যু হয়। আমি আরএমও’র কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কার নির্দেশে মাস্ক খোলা হল। ডাক্তাররা অভিযোগ করলেই হল? এসব না করে বরং চিকিৎসায় নজর দিন। আমার কাছে সব ভিডিও আছে।’
জানা গিয়েছে, বারাকপুরের বাসিন্দা তথা স্থানীয় বিজেপি কর্মী কার্তিক দাসের বাবা দীনেশ দাস। কার্তিকবাবুর অভিযোগ, ‘চিকিৎসার থেকেও হাসপাতালের বেশি মাথাব্যথা ছিল কত টাকার প্যাকেজে ভর্তি হবে, তা নিয়ে। আমাদের সঙ্গে কথা না বলেই হাসপাতালের কর্মীরা বাবার অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেন। তার কিছুক্ষণ পরেই মৃত্যু হয়।’ পুলিস জানিয়েছে, বাড়ির লোকজনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে, চিকিৎসক সংগঠন ডব্লুবিডিএফ মুখ্যসচিবকে চিঠিতে জানিয়েছে, ৬৫ বছরের ওই রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। দ্রুত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করা হয়। এরপরক্যাথল্যাবে পাঠিয়ে রোগীর অ্যাঞ্জিওগ্রাম এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলি করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তার জন্য অনুমতি দিতেই ২ ঘন্টা লাগিয়ে দেন রোগীর বাড়ির লোকজন। সেই অনুমতি পাওয়ার পর রোগীকে ক্যাথল্যাবে নিয়ে যাওয়ার সময় ফের হার্ট অ্যাটাক হয়। মৃত্যু হয় দীনেশবাবুর।