নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আত্মীয়ের বিয়ে ছিল। রাতভর সেখানে হই-হুল্লোড়ের পর সোমবার সকালে বাইকে করে বাড়ি থেকে ফেরার সময় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল মধ্যমগ্রামের এক যুবকের। মাছ বোঝাই একটি গাড়ির সঙ্গে ওই বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন বাইকের পিছনের সিটে বসা যাত্রী। এদিন ভোরে মধ্যমগ্রাম থানার নজরুল সরণি সংলগ্ন যশোর রোডে এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম শেখ কাশেদ আলি (২৪)। পুলিসের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দফায় দফায় যশোর রোড ও মধ্যমগ্রাম থানার সামনে রাস্তা অবরোধ করেন। পুলিসের একটি কিয়স্কেও ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনায় পুলিস পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাশেদ আলির বাড়ি মধ্যমগ্রাম পুরসভার নজরুল সরণি এলাকায়। এদিন ভোরে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান সেরে বাইকে করে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি ও জিয়ারুল রহমান। ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ তাঁরা যশোর রোডে নির্ধারিত লেন ধরেই আসছিলেন। যশোর রোড থেকে নজরুল সরণিতে ঢোকার সময় বারাসতের দিক থেকে আসা একটি মাছ বোঝাই গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই বাইকে ধাক্কা মারে। রাস্তায় ছিটকে পড়েন তাঁরা। উল্টে যায় মাছের গাড়িটিও। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই সময় সেখানে একজন পুলিস কর্মী ও দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ার থাকলেও তাঁরা রক্তাক্ত দুই বাইক আরোহীকে হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেননি। পরে স্থানীয়রাই তাঁদের বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে শেখ কাশেদ আলিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
কাশেদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়ায়। পুলিসের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে এদিন সকালে কয়েক দফায় যশোর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। নজরুল সরণি সংলগ্ন একটি পুলিস কিয়স্কেও ভাঙচুর চালানো হয়। যশোর রোডে যানজট তৈরি হয়।
বারাসতের অতিরিক্ত পুলিস সুপার অতীশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিশাল বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অতীশ বিশ্বাস বলেন, পথ দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আরেকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এনিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ থাকতেই পারে। কিন্তু পুলিসের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ভিত্তিহীন। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিস কর্মীরা দ্রুত ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স ডেকেছিলেন। কিন্তু সেটি পৌঁছতে কিছুটা সময় লেগেছে। ঘাতক গাড়ির চালক ও খালাসি পলাতক। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিসের সহায়তা কেন্দ্র ভাঙচুরের অভিযোগে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।