নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের খবরে ইস্কোর ও বার্নপুর সরগরম। নতুন কারখানা ও টাউনশিপ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে শিল্পাঞ্চলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তারই মাঝে এবার শ্রমিক সংগঠনের নির্বাচন ঘিরে টানটান উত্তেজনা ইস্পাত শহরে। শ্রমিক নেতাদের দাবি, একশো বছরের পুরনো বার্নপুরে ইস্কোর ইতিহাস। সেখানে এই প্রথম শ্রমিক সংগঠনের স্বীকৃতির জন্য নির্বাচন হতে চলেছে। যারা এই ভোটে সর্বাধিক শ্রমিকের সমর্থন পাবে, তাদেরই জুটবে স্বীকৃত শ্রমিক সংগঠনের মর্যাদা। তারা কারখানা নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। হাজার হাজার কোটির বিনিয়োগের মুখে নিজেদের কর্তৃত্ব কায়েম করতে তৎপর প্রতিটি শ্রমিক সংগঠনই। বৃহস্পতিবার সিটু ও বিএমএস সদস্যরা তাঁদের স্বীকৃত শ্রমিক সংগঠনের হয়ে মনোনয়ন জমা করেছেন। ২৩ মে নির্বাচন হওয়ার কথা।
যদিও এই নির্বাচন ঘিরেও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগ তুলেছে আইএনটিইউসি, সিটু, এআইটিইউসিরা। তাদের অভিযোগ, বিএমএসকে সুবিধা দিতে একেবারে শেষ মুহূর্তে নির্বাচনের খবর জানিয়েছে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক। এনিয়ে বিরোধী শ্রমিক সংগঠনগুলি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। পাশাপাশি তারা ভোটের প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে।
বেসরকারি ইস্কো কারখানা শিল্পাঞ্চলের অন্যতম বড় কারখানা। পরে কারখানাটি অধিগ্রহণ করে কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রকের অধিনে থাকা সেইল।
সেইলের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে একযোগে কথা বলত আইএনটিইউসি, এআইটিইউসি, সিটু, এইচএমএস ও বিএমএস।
কারখানার ভালো কাজের পরিবেশ থেকেই কর্তৃপক্ষ ৩৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ৪.৫ মিলিয়ন টন উৎপাদনক্ষম নতুন ইস্পাত কারখানা গড়ছে সেখানে। এই অবস্থায় হঠাৎই কারখানার স্বীকৃত শ্রমিক ইউনিয়নের ভোট করাতে তৎপর হয় বিজেপি ঘনিষ্ঠ শ্রমিক সংগঠন বিএমএস। তারা এনিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়। ২৮ এপ্রিল কেন্দ্রের ডেপুটি লেবার কমিশনার পাঁচটি শ্রমিক সংগঠনকে ডেকে জানায় ২২ ফেব্রুয়ারি আদালত রায় দিয়েছে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করাতে হবে। বৈঠকে সিটু, আইএনইউটি সব শ্রমিক সংগঠনের নেতারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের দাবি, ফেব্রুয়ারি মাসে রায় দেওয়া হলেও কেন তাঁদের সময় মতো জানানো হয়নি। এতেই তাঁরা কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ষড়যন্ত্র দেখছে।
বুধবার নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা করেছে আইএনটিইউসি অনুমোদিত আসানসোল আয়রন স্টিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হরজিৎ সিং বলেন, কী এমন হল বিএমএস নির্বাচনে মরিয়া হয়ে উঠল। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই ওড়িশার মাইনস আদানি গোষ্ঠীর হাতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ইস্কোর মাইনস দখল নেওয়ার জন্যই কী এই নির্বাচন করিয়ে বিএমএসকে ক্ষমতায় বসানোর অপচেষ্টা। সিটু অনুমোদিত শ্রমিক সংগঠনও এদিন মনোনয়ন জমা করে।
সিটুর নেতা সৌরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিএমএসকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই আমাদের নির্বাচন নিয়ে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। আমরা বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।
বিএমএস নেতা সঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আইএনটিইউসির আধিপত্য ভাঙার জন্যই আমাদের এই পদক্ষেপ। আমাদের দাবি, কর্তৃপক্ষের সামনে তোলা হচ্ছিল না।