নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল কালীগঞ্জে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে কালীগঞ্জ থানার অন্তর্গত হাটগাছা পঞ্চায়েতের অনন্তপুর এলাকায়। তৃণমূলের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক মারপিট হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বোমাবাজি ও বাড়ি ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার দুপুরের দিকে এক মহিলা সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কালীগঞ্জ থানার পুলিস। ধৃতদের নাম হাসান মল্লিক, মোহাসিন শেখ ও সালিমা বিবি। প্রত্যেকের বাড়ি অনন্তপুর এলাকায়। ধৃতদের আজ বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হবে। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করছে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস। এই ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তির নামে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছে কালীগঞ্জ থানার পুলিস। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার ডিএসপি মত্তাকিনুর রহমান বলেন, এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছি। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি খোঁজে তল্লাশি চলছে। জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কালীগঞ্জ ব্লক হাটগাছা পঞ্চায়েতের অনন্তপুর এলাকায় তৃণমূলের টিকিটে পরাজিত হয় পঞ্চায়েতের ওই প্রাক্তন সদস্য রৌশান শেখ। জয়ী হয়েছিল সিপিএম প্রার্থী খবির মণ্ডল। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। ফল বেরোনো পর দেখা যায়, ওই এলাকায় তৃণমূল ব্যাপক ভোটে লিড পেয়েছে। রৌশান শেখের বিরুদ্ধে লোকসভা ভোটের সময় দলবিরোধী কাজের অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূলেরই একাংশ। তাই পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য ও বর্তমান সদস্যের মধ্যে বিবাদ লেগেই থাকত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালের দিকে খবির মণ্ডল পরিবারের সদস্যরা মাঠে চাষ করতে যায়। সেইসময় জমিতে আল দেওয়া নিয়ে রৌশান শেখের গোষ্ঠীর লোকজন তাদের মারধর করে বলে অভিযোগ। তারপর এলাকায় এসে রৌশান শেখের লোকজন প্রথমে চড়াও হয় খবির মণ্ডলের লোকজনের উপর। তারপর দুই পক্ষের মধ্যেই মারপিট হয়। পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। বিকেলের দিকে খাবির মণ্ডলের ভাইপো সেলিম মণ্ডল এবং ওয়াসিম মণ্ডলকে স্থানীয় এক পেট্রোল পাম্পের কাছে রৌশান শেখ ও তার লোকজন ব্যাপক মারধর করে। ঘটনায় দুজনই অল্পবিস্তর জখম হয়। সেই ঘটনার রেশ ধরেই সন্ধ্যার দিকে এলাকায় দুই গোষ্ঠী মারপিটে জড়িয়ে পড়ে। একে অপরকে লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়ে বলেও অভিযোগ। বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর হয়। ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর চড়াও হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিস। এব্যাপারে খবির মণ্ডল বলেন, জমি নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। ওদের লোকজন প্রথম আমাদের উপর আক্রমণ করে। জমিতে ও পেট্রোল পাম্পের সামনে আমার পরিবারের লোকজনকে মারধর করে। আমাদের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলিও ছোঁড়ে। এব্যাপারে পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য রৌশান শেখকে ফোন করা হলে, তার ফোন সুইচ অফ পাওয়া যায়। কালীগঞ্জ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, স্থানীয় সমস্যা নিয়ে মারপিট হয়েছিল। এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। অহেতুক রাজনৈতিক রঙ লাগানো হচ্ছে।



