নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: শ্বশুরবাড়িতে চলত অত্যাচার। তারপরই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় বধূর। মৃত্যুর দু’দিন পর মর্গ থেকে বৃহস্পতিবার মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল পুরুলিয়ার মফস্সল থানার হুলকা গ্রাম। বধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। ঘটনায় বধূর শ্বশুর নির্মল মাহাত, শাশুড়ি গীতা মাহাত ও দেওর দীনেশ মাহাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার বাপেরবাড়ির লোকজন অভিযোগ দায়ের করেছে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পাঁচেক আগে ঝাড়খণ্ডের চন্দনকেয়ারির অদ্রকুড়ির বাসিন্দা মিঠাইমণি মাহাতর সঙ্গে বিয়ে হয় হুলকার অরূপ মাহাতর। অরূপ পরিযায়ী শ্রমিক। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মিঠাইমণির উপর অত্যাচার চালানো হতো।
অভিযোগ, গত ২ জুন শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিঠাইমণিকে গ্রামের লোকজনের সামনেই মারধর করে। গ্রামবাসীরা বাধা দিতে গেলে কেউই কথা কানে তোলেনি। মারধরে ওই গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওইদিন বিকেলেই গৃহবধূকে তাঁর বাপের বাড়িতে নিয়ে যায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বধূর বাবা-মাকে বলে তোমাদের মেয়ে অসুস্থ। ওকে ওঝার কাছে নিয়ে যেতে হবে। এরপর গৃহবধূকে টোটোয় চাপিয়ে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ফেরার সময় চাষমোড়ে গৃহবধূর মা বাবাকে টোটো থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরের দিন সকালে জয়পুরের নারায়ণপুরে একটি গাছ থেকে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। জয়পর থানার পুলিস দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পুরুলিয়ার দেবেন মাহাত সদর হাসপাতালে পাঠায়। যদিও গৃহবধূর বাপেরবাড়ির কেউ মৃতদেহ নিতে আসেননি। দু’দিন মর্গে থাকার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে গৃহবধূর দেহ হুলকা গ্রামে পৌঁছতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের গ্রেপ্তারির দাবিতে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরিস্থিতির সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মফস্সল থানার পুলিস। এরপর ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।