Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

খুনে অভিযুক্ত কাউন্সিলারের শুনানিতে উত্তেজনা বারাকপুরে

৮১ বছরের এক বৃদ্ধকে খুনের অভিযোগে ধৃত উত্তর বারাকপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার তথা বারাকপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের কর্তা রবীন ভট্টাচার্যকে আদালতে হাজির করানোকে কেন্দ্র করে সোমবার তুলকালাম কান্ড ঘটে যায়।

খুনে অভিযুক্ত কাউন্সিলারের শুনানিতে উত্তেজনা বারাকপুরে
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: ৮১ বছরের এক বৃদ্ধকে খুনের অভিযোগে ধৃত উত্তর বারাকপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার তথা বারাকপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের কর্তা রবীন ভট্টাচার্যকে আদালতে হাজির করানোকে কেন্দ্র করে সোমবার তুলকালাম কান্ড ঘটে যায়। বারাকপুর আদালত চত্বরে পুলিশ ও আইনজীবীদের মধ্যে কয়েক দফায় ধস্তাধস্তি হয়। মিডিয়ার ওপর চড়া হন আইনজীবীরা। এক মহিলা রিপোর্টারের হাত মুচড়ে দেওয়া হয়। এমনকি রবীনবাবুকে বের হবার সময়ও কোর্ট লক আপের গেট আটকে দেন আইনজীবীরা। প্রসঙ্গত, মণিরামপুরের বাসিন্দা অশীতিপর তুলসী অধিকারী নামে এক ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে রবীনবাবুর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ সামনে আসার পরই দল থেকে তাঁকে ছ’বছরের জন্য সাসপেন্ড করার ঘোষণা করেন বারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক।   

Advertisement

এদিন বেলা পৌনে তিনটে নটা নাগাদ এসিজেএম আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেই মামলার সওয়াল করেন রবীনবাবু। বিচারক আফসান নওয়াজ ওয়ারসির কাছে আবেদনে তিনি বলেন, ওই বৃদ্ধ তুলসী অধিকারী আমার কলার ধরেন। তর্কাতর্কি, ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। কোন লাথি মারা হয়নি। সৌমেন মজুমদার নামে একজন সাক্ষী রয়েছেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখতে পারেন। এটা খুন এর কোন মামলা নয়। যেকোনো শর্তে আমি জামিন চাইছি। যখন ডাকা হবে, তখনই আমি আসব। বিচারক সব শুনে তখনকার মতো রায় দান স্থগিত রাখেন। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বিচারক রবীনবাবুকে সাতদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। 
এই নির্দেশের কথা শুনে আইনজীবীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কেন সাতদিনের পুলিশ হেপাজত দেওয়া হবে, তা নিয়ে রবীনবাবু ও অনৎ আইনজীবীরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। জুনিয়র আইনজীবীরা কোর্ট লক আপের গেট আটকে দেন। পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাজে বাধা দেওয়া হয়। এই পর্বে এক মহিলা সাংবাদিককে নিগ্রহ করা হয়। বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুশান্ত রায় ও অন্যরা মিলে উত্তেজিত আইনজীবীদের সরিয়ে দেন। সেসময়  দুপক্ষের মধ্যে তুমুল তর্কাতর্কি-বচসা হয়। শেষে সন্ধ্যা সোয়া ছ’টা নাগাদ বিশাল পুলিশি প্রহরায় রবীনবাবুকে কোর্ট থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। বেরোনোর মুখে তিনি চিৎকার করে বলেন, কাল থেকে কোর্ট স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। তিন দিন আগে রবীনবাবুর  স্ত্রী মারা যান। ধরা-কাছা পরেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পুত্র। 
এদিকে বিজেপি নেতা প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংয়ের নেতৃত্বে এদিন আদালতের  সামনে তুমুল বিক্ষোভ চলে। পুলিশ সেই বিক্ষোভ হটিয়ে দিলে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা চিড়িয়ামোড়ে কিছুক্ষণের জন্য পথ অবরোধ করে। পুলিশ রাস্তা থেকে তাদের সরিয়ে দেয়। পরে বিজেপির চারজনের একটি প্রতিনিধি দল ডিসি সদর অতুল বিশ্বনাথন এর সঙ্গে দেখা করেন। 

সম্পর্কিত সংবাদ