নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ভর্তি এবং পরীক্ষা ফি কমানোর দাবিতে রেজিস্ট্রারকে ঘেরাও করলেন স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রছাত্রীরা। প্রায় চার ঘণ্টা ঘেরাও চলে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। রেজিস্ট্রারের ঘরেই বসে পড়েন আন্দোলনরত পড়ুয়ারা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ভর্তি এবং পরীক্ষা ফি কমানোর দাবিতে রেজিস্ট্রারকে ঘেরাও করলেন স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রছাত্রীরা। প্রায় চার ঘণ্টা ঘেরাও চলে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। রেজিস্ট্রারের ঘরেই বসে পড়েন আন্দোলনরত পড়ুয়ারা।
রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ছাত্ররা তার প্রশাসনকে ঘেরাও করতেই পারে। ছাত্ররা সবসময়ই আমাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। আমরাও যতটা সম্ভব ছাত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করি। ওরা আজকে এসেছে এবং মৌখিকভাবে আমাকে অনেক বিষয় জানিয়েছে। আমি সেটা শুনেছি। ওদের লিখিতভাবে জানাতে বলেছি। ওরা সেটা লিখিতভাবে জানাচ্ছে।
সোমবার সকালে রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা মাত্রই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পড়ুয়ারা। রেজিস্ট্রারের ঘরে ঢুকে পড়েন তাঁরা। সেখানে মাটিতে বসে রেজিস্ট্রারকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান ছাত্র-ছাত্রীরা। তাঁরা বলেন, আমাদের এখানে ঘেরাও করার একটা দাবি, সেমেস্টার প্রতি আমাদের ৫ হাজার ৮২০ টাকা ফি রাখা হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যেই ৪ হাজার ৯২০ টাকা প্রথম সেমেস্টারে দিয়ে ভর্তি হয়ে এসেছি। তাহলে এই ফি কেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ নয় বছর পর গত শিক্ষাবর্ষে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, কন্ট্রোলার সমস্ত ডিপার্টমেন্টের ডিন, শিক্ষক প্রতিনিধি সহ আরও অন্যান্যদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিন ফি বৃদ্ধির প্রসঙ্গে রেজিস্ট্রার বলেন, আমাদের ফি নিয়ে ওদের যেটা দাবি, সেই ফি ন’বছর পর গত শিক্ষাবর্ষে চালু হয়েছিল। এই ধরনের ফি স্ট্রাকচার একটা কমিটি গঠন করে, আমি একা নয়। রেজিস্ট্রার সেই কমিটির একজন সদস্য। ছাত্রছাত্রীরা কতগুলি জায়গা সরলীকরণের দাবি তুলেছে। তাঁদের দাবিপত্র পেলে উপাচার্যকে বলে যে কমিটি এই ফি স্ট্রাকচার ঠিক করেছে সেই কমিটির একটা বৈঠক ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চয়ই বিবেচনা করবে।
আন্দোলনরত পড়ুয়াদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের কয়েকজন প্রতিনিধিকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির বৈঠক ডাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, আমাদের দাবিগুলো ওই বৈঠকে আলোচনা করে দেখা হবে। তাই বেলা ৩টে নাগাদ ঘেরাও তুলে নেওয়া হয়। আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পড়ুয়া জানান, ১৭ থেকে ২০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়। এরমধ্যে যদি ফি কমানো না হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হব।